এনআরসি ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে আসাম সরকার

নিউজ ডেস্ক:   ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) পুনরায় যাচাইয়ের জন্য এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে রাজ্যটির সরকার। এতে প্রয়োজনে ডাকা হতে পারে এনআরসিতে বাদ পড়াদের সঙ্গে তালিকাভুক্তদেরও। ফলে নতুন করে তাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বেড়েছে।

গত ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিকপঞ্জিতে বাদ পড়েছে ১৯ লাখ লোক। এরপর থেকেই আসামের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে গোটা ভারতের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা তৈরির পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। খবর যুবশঙ্খের।

চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে বিজেপির পক্ষ থেকে বার বার বলা হয়েছিল, এতে হিন্দু বাঙালিদের স্বার্থ রক্ষিত হবে। কিন্তু হয়েছে উল্টো। এনআরসি তালিকা প্রকাশের পর কিছুটা হলেও প্যাঁচে পড়ে গেছে বিজেপি।

টানা ৬ বছর ধরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কো-অর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলার নেতৃত্বে নাগরিকপঞ্জির তালিকা তৈরির কাজ করা হয়। পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ণ উঠার কারণে এবার তা পুনর্যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আসাম-বাংলাদেশ লাগোয়া সীমান্তবর্তী জেলা যেমন-ধুবড়ি, বড়পেটা, দক্ষিণ শালমারা, কাছার, কমিরগঞ্জ এবং হাইলাকান্দির ২০ শতাংশ পুনরায় যাচাইয়ের দাবি জানানো হবে। বাকি জেলাগুলির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ পুনর্যাচাইয়ের দাবি তোলা হয়েছে।

অল আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন, এপিডব্লুসহ অন্যান্য সংগঠনগুলিকে জোটবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্যটির মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

তবে এই দাবি জোরালো হলে বিপাকে পড়তে পারেন নাগরিকপঞ্জির তালিকাভুক্তরা। পুনর্যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় দরকার পড়লে তাদেরও ডাকা হতে পারে। ফলে ফের আসামজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এদিকে বিদেশ মন্ত্রক থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, এনআরসিছুটদের কারও বিরুদ্ধেই কোনো সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এনআরসি আইনি প্রক্রিয়ামাত্র। এটা নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই।

তবে সরকারের আশ্বাসবানীর পরও একটা সংশয় থেকেই যাচ্ছে।