সাংস্কৃতিক অঙ্গণে আলো ছড়াচ্ছে “স্কুল অফ আর্ট”

ওবায়দুর রহমান সোহান, ঢাবি: এক ঝাঁক তরুন, মেধাবী, উদ্যমী এবং সৃজনশীল শিক্ষার্থী এবং প্রশিক্ষক নিয়ে, বিজয় একাত্তর হল সংসদের তত্বাবধানে অন্যান্য হল সংসদের সাথে তাল মিলিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে যেতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে বিজয় একাত্তর হল সংসদ কর্তৃক পরিচালিত, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বাতিঘর “স্কুল অফ আর্ট”।

শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে এবং স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সুনিবিড়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে এই ‘স্কুল অফ আর্ট’। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে চলছে এই “সাংস্কৃতিক স্কুল”। তারই ধারাবাহিকতায় সপ্তাহে তিনদিন সংগীত, একদিন গিটার, একদিন আবৃত্তি, দুদিন নৃত্য, দুইদিন চলছে নাট্য প্রশিক্ষনের ক্লাস। এর পাশাপাশি প্রতি মাসে নির্ধারিত দুইদিন চলছে সাহিত্য-আড্ডা। এছাড়াও, সপ্তাহে একদিন রয়েছে “চলচ্চিত্র” প্রদর্শণী। এরই বদৌলতে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় পদার্পণের সুজোগ পাচ্ছে হলের শিক্ষর্থীরা।

স্কুল অফ আর্ট এর তত্ত্বাবধায়ক, বিজয় একাত্তর হল সংসদের সংস্কৃতিক সম্পাদক রনো আনোয়ার বলেন, সংস্কৃতির জাগরণ হতে পারে একটি নতুন মাত্রা। আমাদের সমাজে মনস্তাত্ত্বিক বিকাশের রূপরেখায় যে কাঠামোগত ঘাটতিগুলো রয়েছে সেই ঘাটতিগুলো পুষিয়ে উন্নত মননের মানুষ তৈরির জব্য চাই সাংস্কৃতিক জাগরণ।

স্কুল অফ আর্টের উদ্ভাবন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তি বড় কোন সহিংসতা করতে পারে না এবং তার চিন্তার সীমাবদ্ধতা থাকে না।মাটি ও মানুষের কাছে আনার এবং জীবনের নির্যাসের সাথে আত্নীকরণের প্রয়োজনেই স্কুল অফ আর্টের উদ্ভব।

বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মুহিবুল ইসলাম বলেন, হল সংসদের এই কার্যক্রমের আমি সাধুবাদ জানাই। পড়াশোনার পাশাপাশি এই সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের প্রতিভা বিকাশের বড় একটি প্লাটফর্ম। আমরা আমাদের অবসর সময় সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অতিবাহিত করি যা আমাদের মনসিক প্রশান্তি অর্জনে অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

বিজয় একাত্তর হলের আরেক শিক্ষার্থী রেদোয়ানুল হক দীপু বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা ভাবনা সংস্কৃতিমনা গড়ে তুলতে এবং ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ ফলপ্রসূ হবে বলে আমি মনে করি।

স্কুল অফ আর্টের নাট্য বিষয়ক প্রশিক্ষক মোঃ লিপটন ইসলাম বলেন, হলের শিক্ষার্থীদের এই সাংস্কৃতিক কর্মজজ্ঞে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন ভাবে সাংস্কৃতিক চেতনা ও বোধ তৈরী হবে। যা আমাদের দেশীয় লোকজ সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

স্কুলের আবৃত্তি প্রশিক্ষক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, এখানে প্রশিক্ষনের গ্রহনের মাধ্যমে, পড়াশোনার পাশাপাশি কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিসেও পারদর্শী হয়ে উঠবে। এতে যেকোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি আরো বিভিন্ন দিক থেকে দক্ষ করে তুলবে।

স্কুল অফ আর্টের কার্যক্রম প্রসঙ্গে বিজয় একাত্তর হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) সজিবুর রহমান বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা হল সংসদের অন্যতম কাজ। স্কুল অফ আর্ট থাকার দরুন হলের শিক্ষার্থীরা তাদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি যা আমাদের দেশে সংস্কৃতির প্রচার-প্রসারে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বিজয় একাত্তর হল সংসদের সাধারন সম্পাদক (জিএস) নাজমুল হাসান নিশান বলেন, স্কুল অফ আর্ট গতানুগতিক সংস্কৃতি চর্চা থেকে বের হয়ে এসে নতুন ধারার সংস্কৃতি চর্চা করছে। যাতে স্কুল অফ আর্ট এর অন্যান্যদের জন্য মরিয়া হয়ে দাঁড়ায়।

“স্কুল অফ আর্ট”- এর সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বিজয় একাত্তর হল সংসদের সহ-সাধারন সম্পাদক (এজিএস) আবু মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, হলের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহন এবং চর্চার মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতে সমগ্র দেশে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটাতে সহায়তা করবে।

হলের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত এই কর্মকান্ড সম্পর্কে বিজয় একাত্তর হল সংসদের সভাপতি এবং হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শফিউল আলম ভূইয়া বলেন, শিক্ষার্থীরা যত বেশি সৃজনশীল কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকবে তারা ততো বেশি মননশীল এবং রুচিবান মানুষের চিন্তার অধিকারী হবে। এদিক থেকে স্কুল অফ আর্ট কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।