এনআরসি প্রকাশে সঙ্কটে বিজেপির হিন্দুত্ববাদ

সুমন দত্ত: ভারতের আসাম রাজ্যের এনআরসি বা নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ হওয়ার পর থেকে বিজেপির হিন্দুত্ববাদ এখন সংকটের মুখে। কারণ নাগরিকপঞ্জির সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকা অনুসারে দেখা যাচ্ছে ১৯ লাখ ৬ হাজারের মত লোক সেখানে অবৈধ হিসেবে বসবাস করছেন। এর মধ্যে ১১ লাখ হিন্দু ও ৬ লাখ মুসলমান আর বাকী ২ লাখ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর লোক। বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্র হতে এই তথ্য জানা যাচ্ছে।

১১ লাখ হিন্দু কীভাবে অবৈধ হলো? এদের ভবিষ্যৎ কি? এ নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে বিজেপি সরকার। মিডিয়ায় তারা বলে বেড়াচ্ছেন ভারতের সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট সংশোধন করে অন্য দেশ থেকে পালিয়ে আসা হিন্দুদের ভারতের নাগরিক করে নেয়া হবে। কিসের ওপর ভরসা করে একথা বলছেন বিজেপির নেতারা? তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি তারা।

এদিকে বিজেপির এই সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট গত লোকসভায় বিল আকারে পেশ হয়। তা পাসও হয়। তারপর উচ্চকক্ষ রাজ্য সভায় তা বাতিল হয়ে যায়। অজুহাত হিসেবে দার করানো হয় রাজ্যসভায় বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা কে।

অথচ কাশ্মীরের ৩৭০ বাতিল ও ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় তথা সীমান্ত চিহিৃত বিল রাজ্যসভায় পাস হয়েছে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও। আসলে বিজেপি কোন বিল পাস করাবে আর কোনটা করাবে না এটা তাদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট বিল পাস করানোর জন্য বিজেপি রাজ্যসভায় ভারতের অন্য দলগুলোর সমর্থন আদায়ের বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেনি। এখানেই বিজেপির ভণ্ড হিন্দুত্ববাদী চরিত্র ধরা পড়ে যায়।

ক্ষমতা দখল করতে বিজেপি কোনো জায়গায় গরুকে ইস্যু বানিয়েছে। কোনো জায়গায় রাজ্য ভাগের টোপ দেয়া হয়েছে। এমন নীতি নিয়ে বিজেপি ভারতে রাজনীতি করে যাচ্ছে। যেমন আসামে বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে এনআরসিকে ইস্যু বানিয়েছিল। এখন ওই অঞ্চলে এ নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে বিজেপি হিন্দুত্ববাদের পিছনে কুড়াল মেরে দিয়েছে। ১১ লাখ হিন্দুকে এখন ডিটেনশন ক্যাম্পে ৬ লাখ মুসলমানদের সঙ্গে থাকতে হবে। আসামের কোনো কোনো বিজেপি নেতা বলছেন বাংলাদেশকে অনুরোধ করা হবে অবৈধদের ফেরত নিতে। এদিকে বাংলাদেশ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে আসামের একজনকেও গ্রহণ করা হবে না।

আসামের বাংলাভাষী হিন্দুদের অবৈধ ঘোষণা করে বিজেপি বুঝিয়ে দিল তারা পাকিস্তান বাংলাদেশের নির্যাতিত হিন্দুদের জন্য মেকি কান্না করে। শুধু রাজনীতির কারণেই হিন্দু ইস্যুগুলোকে সামনে নিয়ে আসে।

লেখক: সাংবাদিক