আসামের নাগরিক তালিকা: ভারতের অবস্থান স্পষ্ট, তবু উদ্বেগ

মোহাম্মাদ তৌহিদ হোসেন:   আসামে নাগরিক তালিকা প্রকাশ নিয়ে কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ সফরে এসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর বলে গেছেন, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তার কথা অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলে এ নিয়ে বাংলাদেশের বলার কিছু নেই। একই সঙ্গে এর কোনো প্রভাব প্রতিবেশী বাংলাদেশের ওপর পড়বে না বলেই আশা করা যায়। তাছাড়া তালিকা প্রকাশের পর ১৯ লাখ বাদ পড়লেও তাদের এখনও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অতএব, এ বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট এবং এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে উদ্বেগের একটা কারণ হচ্ছে, এ ইস্যুতের ভারতের ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক  বক্তব্য। ক্ষমতাসীন বিজেপির শীর্ষ নেতারাও যেভাবে এ ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টানছেন, তালিকায় বাদ পড়াদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে আখ্যায়িত করছেন, সেটা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। দেখা যাচ্ছে, আসামে নাগরিক তালিকা নিয়ে জোরালোভাবে ‘বাংলাদেশ কার্ড’ খেলার রাজনৈতিক প্রবণতা। এ কারণেই দুশ্চিন্তা হয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে এ লোকগুলো বাংলাদেশের ঘাড়ে চেপে না বসে!

কূটনৈতিক বিবেচনায় এ ইস্যু নিয়ে এ মুহূর্তে বাংলাদেশের বলার কিছু নেই। কারণ, কূটনীতিতে একটা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কোনো কিছু বলা যায় না। কিন্তু ভারতের বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর রাজনীতিতে যেন বাংলাদেশ কার্ড ব্যবহার না হয়, সে বিষয়েই এখন সজাগ থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশকে অবশ্যই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে। সেখানে এ ইস্যু নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাংলাদেশ কার্ড কতটা ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে। ভারতের জ্ঞানী-গুণী যারা আসামের এই নাগরিক তালিকা তৈরির বিষয়টিকে গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করেন না, তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। যাতে তারা আরও সোচ্চার হন।

আমি মনে করি, আসামের এই নাগরিক তালিকা তৈরি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণটা আগেই বলেছি, এ বিষয়ে ভারত সরকার তার অবস্থান স্পষ্ট করেই জানিয়েছে এবং সে অবস্থান বিবেচনায় বাংলাদেশের উদ্বেগের কিছু নেই।

লেখক : সাবেক পররাষ্ট্র সচিব