আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন সৈয়দ জামিল আহমেদ

ওবায়দুর রহমান সোহান, ঢাবি: বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশে “মঞ্চনাটক” প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে কয়েকটি নামের মধ্যে উঠে আসে এই গুনি মানুষটির নাম।তিনি, ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ। ‘দ্য ডেইলি স্টার-স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড জীবনের জয়গান’ প্রতিযোগিতার ১২ তম আসরে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন বাংলাদেশের “থিয়েটার ঈশ্বর” খ্যাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ। আগামী ২৫ অক্টোবর এই সম্মাননা প্রদান করা হবে ।

দেশে তথা ভারতীয় উপমহাদেশে মঞ্চ নাটকে বিশেষ অবদান রাখায় সৈয়দ জামিল আহমেদ এই সম্মাননা পাচ্ছেন। এছাড়াও চলচিত্রে এবছর এই সম্মাননা পাচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সারাহ্ বেগম করবী এবং সংগীতে পাচ্ছেন কিংবদন্তি সংগীত শিল্পি সৈয়দ আব্দুল হাদী।

বাংলাদেশের থিয়েটার জগতের জীবন্ত কিংবদন্তি সৈয়দ জামিল আহমেদ ১৯৫৫ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকায় জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৭১ সালে অংশগ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধে। ১৯৭৪ সালে ঢাকা থিয়েটারে যোগদানের মাধ্যমে নতুন জগতে প্রবেশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র অবস্থায় ১৯৭৫ সালে তিনি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) বৃত্তি নিয়ে নয়া দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামাতে (এনএসডি) ভর্তি হন। ১৯৭৮ সালে তিনি ডিপ্লোমা ইন ড্রামাটিক আর্টস ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৮৯ সালে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়ারউইক থেকে থিয়েটারে এমএ এবং ১৯৯৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

পরবর্তিতে, সৈয়দ জামিল আহমেদ ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন।

নির্দেশক হিসাবে তার সুনাম বিশ্বজুড়ে। তিনি দেশে বিদেশে অসংখ্য নাটক নির্দেশনা দিয়ে আলোড়িত হয়েছেন। তার নির্দেশনায় মঞ্চায়িত হয় লোকনাট্য কমলা রানী সাগরদীঘি, বেহুলার ভাসান, ‘সংভংচংয়ের’ মতো প্রযোজনা যা দর্শককে আকৃষ্ট করেছিল দারুণভাবে। কিন্তু এ ধরনের কাজের অপ্রতুলতা মঞ্চনাটক থেকে দর্শকবিমুখতা তৈরি হয়েছে। ২০১০ সালে তিনি পুনরায় এনএসডিতে নির্দেশনা দেন ‘ম্যাকবেথ’ নাটক এবং ২০১২ সালে কলকাতায় ‘শ্যামার উড়াল’। সেলিম আল দীনের রচিত ‘চাকা’ নাটকটি ইংরেজী ভাষায় অনুবাদ করে ডেনি প্যাট্রেজের সঙ্গে যৌথভাবে নির্দেশনা দেন আমেরিকায় এবং এটি তাকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেন। এছাড়াও, ২০১৭ সালে এই গুনি মানুষটির নির্দেশিত “রিজওয়ান” নাটকটি দেশের থিয়েটার প্রেমী দর্শক ছাড়াও অন্যান্ন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়। সর্বশেষ এবছর জাতীয় নাট্যশালার মঞ্চে শহীদুল্লাহ্ জহিরের উপন্যাস অবলম্বনে নাটক ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ নির্দেশনা দিয়ে তিনি দেশের নাটকে নতুন অধ্যায় শুরু করেন এবং দেশে, দেশের বাইরের নাটক পাড়ায় ব্যাপক ঝড় তুলেছে এবং প্রশংসিত হয়েছেন।

জামিল আহমেদের বদৌলতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রভাব পড়েছে নাটকের অন্য শাখাগুলোতে যেমন আলোক পরিকল্পনার আধুনিকায়নে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। জামিল আহমেদের আলোক পরিকল্পনায় এবং শিল্প নির্দেশনায় প্রযোজিত হয়েছে অচলায়তন, রক্তকরবী, চিত্রাঙ্গদা, ফণিমনসা, কিত্তনখোলা, কেরামত মঙ্গল, ইনস্পেক্টর জেনারেল, ইডিপাস, গিনিপিগ, বিসর্জন, বিষাদ সিন্ধু, সাতঘাটের কানাকড়ি, এই দেশে এই বেশে।

উল্লেখ্য, দ্য ডেইলি স্টার ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের আয়োজনে আলোকচিত্র, গীতিকবিতা এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা ‘জীবনের জয়গান’ উৎসব শুরু হয় ২০০৮ সালে।