মারা যাওয়ায় মোশতাক ও জিয়ার বিচার হয়নি: আইনমন্ত্রী

সুমন দত্ত: আইনে মৃত ব্যক্তির নামে অভিযোগ গ্রহণ করা হয় না। এ কারণে বঙ্গবন্ধু হত্যায় খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমান যুক্ত থাকলেও তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা যায়নি। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নেপথ্যে যারা জড়িত ছিল তাদের চিহিৃত করতে সরকার একটি কমিশন করতে চায়।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত শোকের মাস, ষড়যন্ত্রের মাস শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

সম্প্রীতি বাংলাদেশের সভাপতি পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় সূচনা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ডা. মাহাতাব আল মামুন স্বপ্নিল। এদিন ১৫ আগস্ট, ১৭ আগস্ট ও ২১ আগস্ট সম্পর্কে বক্তব্য দেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, মেজর জেনারেল (অব:) মোহাম্মদ আলি শিকদার, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব এ কে এম আতিকুর রহমান, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুরাদ হাসান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও এমপি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।

আতিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রদূত থাকার সময় বঙ্গবন্ধুর দুই খুনির সঙ্গে কাজ করার দুর্ভাগ্য হয়েছিল আমার। এরা হলেন রাশেদ চৌধুরী ও মহিউদ্দিন আহমেদ। এরা অফিসে আসতেন এমন ভাব নিয়ে যেন অন্যরা কেউ কিছুই না। এরা যে মানুষ খুন করতে পারেন সেটা তাদের আচরণেই বোঝা গেছে।

শফিকুর রহমান বলেন, জিয়া মুক্তিযুদ্ধ করেনি। মুক্তিযুদ্ধ করলে তার বর্ণনা বই পুস্তকে পাওয়া যেত। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছি তাদেরও কিছু না কিছু লেখা আছে। মুক্তিযুদ্ধে কে কোন মিশনে গেছে তার কথা থাকে। জিয়া মুক্তিযুদ্ধ করলে তার বর্ণনা কোথাও নেই কেন? মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কলকাতায় গিয়ে ২-৩ দিন গায়েব হয়ে থাকতেন। তাকে খুঁজেই পাওয়া যেত না।

বিচারপতি মানিক বলেন, জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যায় যে মাস্টার মাইন্ড ছিলেন সেটা ১৯৭৩ সালেই জেনে গিয়েছিল শশাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায় (ব্যনার্জী) নামের এক ভারতীয় গোয়েন্দা। তিনি লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের দ্বিতীয় সেক্রেটারি ছিলেন। ব্যনার্জী বাবুর কাছেই বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল ফারুক ভারতে যাবার জন্য ভিসা চান। দিয়ে যান তাকে এক সুটকেস। সেই সুটকেস জিয়া ব্যনার্জী বাবুর কাছে ফেরত চান। জিয়াকে তখন ব্যানার্জী বাবু প্রশ্ন করেছিলেন কেন তিনি মেজর জেনারেল হয়ে একজন কর্নেলের সুটকেস নিতে চাইছেন? ওই সুটকেসের মধ্যেই ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার নীল নকশা। বঙ্গবন্ধুকে এদের ব্যাপারে সজাগ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বিশ্বাসই করতে পারেননি এরা তাকে হত্যা করবে। মানিক আরও বলেন, এছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করার সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান কে এম শফিউল্লাহ তার সাক্ষ্যে বলেন, ১৫ আগস্ট ঘটনার দিন তিনি সবাইকে ডেকেছিলেন। সবাই অপ্রস্তুত হয়ে তার কাছে আসে শুধু জিয়া পুরো প্রস্তুত হয়ে এসেছিল। প্রেসিডেন্ট হত্যার কথা শুনে জিয়া বলেছিল সো হোয়াট। মানে তাতে কি? প্রেসিডেন্ট মারা গেছে ভাইস প্রেসিডেন্ট তো আছে। সংবিধান সেই মত চলবে। জিয়ার মুখে বিন্দুমাত্র শোক ছিল না।

ডা. মুরাদ হাসান বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিরা এতটাই নৃশংস ছিল যে তারা শিশু রাসেল কিংবা অন্তঃসত্ত্বা নারীকেও রেহাই দেয়নি। তাদেরও তারা হত্যা করে। এই শক্তি ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে। এরা ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালন করে।

মোহাম্মদ আলি শিকদার বলেন, দেশে আজ খুনি চক্র এমনভাবে মিশেছে যে তাদেরকে চেনা কঠিন হয়ে গেছে। এই প্রেস কনফারেন্সেই ওই আলবদর, আলশামস রাজাকারের প্রতিনিধিরা আছে। তারা আমাদের কথা শুনছে। আমাদের এদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। তারা সরকার উৎখাতের বিভিন্ন পরিকল্পনায় লিপ্ত।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার নেপথ্যে যারা ভূমিকা রেখেছেন তাদের চিহিৃত করতে অবশ্যই একটি কমিশন করা হবে। এই সুযোগ আমরা ছেড়ে দিতে পারি না। মন্ত্রী এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানালেন।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম