নদীকে পুকুর বানিয়েছে দখলদারেরা!

শেরপুর প্রতিনিধি: দেশীয় মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে খ্যাত শেরপুরের নকলা উপজেলার পাঠাকাটা ইউনিয়নের সুতী নদীটি দখল করে ব্যক্তিগত পুকুর বানিয়েছে দখদারেরা। সেটিকে মৎস্য চাষের প্রকল্পে পরিণত করেছে তারা।

ব্রহ্মপুত্র নদের একটি শাখা নদী সুতী নদীটি। নকলা উপজেলার পাঠাকাটা ইউনিয়নের পলাশকান্দি, পাঁচকাহুনিয়া ও পাঠাকাটা গ্রাম হয়ে মুল বহ্মপুত্র নদে গিয়ে মিশেছে। দীর্ঘকাল যাবত ব্রম্মপুত্র নদের সঙ্গে সুতী নদীর অবিচ্ছিন্ন স্রোতের প্রবাহ ছিলো। কিন্তু গত কয়েক বৎসরে সুতী নদী অবৈধ দখলদারদের দখলে চলে গেছে। নদীটিতে বাধ দিয়ে শতাধিক পুকুর তৈরি করায় একদিকে যেমন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে প্রবাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, অন্যদিকে সুতী নদী এখন আবদ্ধ জলাভূমির মৎস চাষ প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। এভাবে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে নদীটি।

বর্তমানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেশীয় মাছের স্থলে রুই, কাতলা, তেলাপীয়া ও পাঙ্গাস জাতীয় মাছ চাষ করা হচ্ছে সুতী নদীর বুকে বাধ দিয়ে তৈরি করা পুকুরগুলোতে।

নদীটির প্রশস্ততা বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে হলেও অবৈধ দখলদারেরা সবচেয়ে বেশি পুকুর তৈরি করেছে সুতীনদীর গাবতলী বাজারের নিকট থেকে পাঠাকাটা বাজারের পার্শ্ববর্তী স্থান পর্যন্ত। তাছাড়া পুরো নদীটিই বিক্ষিপ্ত ভাবে বাধ দিয়ে পুকুরে রুপান্তর করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভুমি) তাহমিনা তারিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, সুতিনদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে ডেল্টা প্রকল্প স্থাপনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় দ্রুত সুতীনদী খনন কাজ শুরু হবে।

৬ নং পাঠাকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফয়েজ মিল্লাত, তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘অবৈধ দখলদারেরা সুতিনদীতে একের পর এক পুকুর নির্মাণ করে একদিকে যেমন দেশ ও জনগণের ক্ষতি করছে, অন্য দিকে দেশী মাছের জন্য প্রসিদ্ধ এ নদীটি গ্রাসের পায়তারা করছে। আমি একাধিকবার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও সরকারের উচ্চমহলে জানিয়েছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।’