বিদ্যুৎ খরচে অস্বচ্ছতা, প্রি-পেইড মিটারে আগ্রহী নয় গ্রাহকরা

সুমন দত্ত: বিদ্যুৎ ব্যবহারে অস্বচ্ছতা ও প্রয়োজনীয় সেবা সময়মত না পাওয়ার কারণে বাসা বাড়িতে প্রি-পেইড মিটার না লাগানোর দাবি জানিয়েছে প্রি-পেইড মিটার সংযোগ প্রতিরোধ কমিটি নামের একটি সংগঠন। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তারা।

এদিন সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন কমিটির আহবায়ক হাজী মোহাম্মদ শাহ জাহান সিকদার। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হাজী মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন হাওলাদার, হাজী মোহাম্মদ ইয়াসিন, বাহারানে সুলতান বাহার, জামাল উদ্দিন বাচ্চু, এম আহসান হাবিব, অ্যাডভোকেট কবির আহমেদ, নাসির প্রধান, আলী হোসেন, নূরুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, প্রি-পেইড মিটার একটি রাক্ষুসে মিটার। আগে ডিজিটাল মিটারে যে বিল আসতো ৭০০ টাকা সেখানে এখন আসে ১৬০০ টাকা। আগের ডিজিটাল মিটারে একজন গ্রাহক জানতে পারতো তিনি কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। এখন প্রি-পেইড মিটার গ্রাহক কিছুই জানতে পারেন না।

বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ ডিপিডিসি পুরানো ডিজিটাল মিটার নিয়ে নতুন প্রি-পেইড মিটার জোর করে লাগিয়ে দিচ্ছেন। অথচ পুরান ডিজিটাল মিটারের গ্রাহককে নগদ পয়সা দিয়ে কিনতে হয়েছিল। সেই পয়সা তারা ফেরত দিচ্ছেন না। আর প্রি-পেইড মিটারের দাম কত তা গ্রাহককে জানাচ্ছেন না। গ্রাহক প্রি-পেইড মিটারের জন্য কত দিন কিস্তিতে টাকা দেবে তা নিয়ে চলছে অস্পষ্টতা। 

প্রি-পেইড মিটার লক হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষকে ডেকে আনতে হয়। লক খোলার জন্য ৬২০ টাকা জরিমানা দিতে হয়। আর নিজেদের ইচ্ছামত সময়ে ডিপিডিসির লোক আসে। ততদিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে। এমন অবস্থায় গ্রাহককে বিদ্যুৎ বন্ধের জ্বালা সহ্য করতে হয়। প্রি-পেইড মিটার ১০০০ টাকা রিচার্জে ২০ টাকা এজেন্ট কে কমিশন দিতে হয়। প্রিপেইড মিটার জরুরী ব্যালেন্স ভরতে ২০০ টাকার সঙ্গে ৫০ টাকা সুদ দিতে হয়। এমন অবস্থায় প্রি-পেইড মিটার লাগাতে আগ্রহী নয় এর গ্রাহকরা।

বক্তারা আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রি-পেইড মিটার বন্ধের দাবিতে মিছিল মিটিং হচ্ছে। সরকারকে অবিলম্বে এই প্রকল্প বন্ধ করতে হবে। প্রি-পেইড মিটারের সমস্যা সমাধান না করে এটা লাগানো সঠিক না। গ্রাহককে নোটিশ দিয়ে এই মিটার লাগানোর অনুমতি নিতে হবে। আগে লাগানো মিটার খুলে নিতে হবে।

সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন , আপনারা ভোক্তা অধিকার আইনের সহায়তা কেন নিচ্ছেন না? জবাবে তারা বলেন, আমরা সবাইকে আগে জানিয়ে তারপর সবার মতামত নিয়ে আইনের আশ্রয় নেব। সরকার যদি আমাদের দাবি মেনে নেয় তবে আমরা সেখানে যাবো না। মেনে না নিলে তখন সেখানে যাওয়ার কথা ভাববো।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম