১৫ ও ২১ আগস্ট একই শক্তির কাজ

সুমন দত্ত: নানা দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় পরাজিত শক্তি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। কারণ তারা স্বাধীনতাকামীদের দ্বারা নিহত হয়ে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে। শুধু বাংলাদেশের ইতিহাস ঘাঁটলেই ব্যতিক্রম চোখে পড়ে। এখানে পরাজিত শক্তি স্বাধীনতাপূর্ব রাজনীতি করে। আবার দেশ শাসনও করে।

রাজনীতি নিয়ে যারা গবেষণা করেন তাদের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাবজেক্ট। এই নমুনা পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না। বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে এখানে পরাজিত শক্তি রাজনীতি করার সুযোগ পায়। আর তার পরিণাম কি হতে পারে? তার উত্তম উদাহরণ ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা। এই দুই হামলার কুশীলব একই শক্তি। যারা ১৯৭১ সালে পরাজিত হয়েছিল। যাদের রাজনীতি সে সময় দাফন হয়ে গিয়েছিল বলে অনেকে মনে করত।

পাকিস্তানের ফেলে যাওয়া মুসলিম লীগের ধারক ও বাহক বিএনপি। আর পাকিস্তানের শাখা জামায়াত তো নাম না চেঞ্জ করেই এখনো টিকে আছে। ৭১ এর পরাজিত দোসরাই বাংলাদেশে জন্ম দেয় ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট। এখনো এরা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এদের আর্তনাদ শোনা যায়। রাস্তায় এরা আওয়ামী লীগ সেজে ঘুরে বেড়ায়।

পরাজিত শক্তি রাতদিন এদেশের নেতৃত্বকে তথা শেখ হাসিনাকে হত্যার স্বপ্ন দেখে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে এদেশের মানুষ স্বাধীনতায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সেদিন সবার নেতা ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু আটক ছিলেন তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে (বর্তমান পাকিস্তান)। বিশ্বের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বিচ্ছিন্ন। ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে কি হচ্ছে? কারা কি করছে? সবকিছুই বঙ্গবন্ধুর কাছে অজানা।

দেশ স্বাধীন হবার পর ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর একক প্রচেষ্টায় শেখ মুজিবুর রহমান এদেশে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় ফিরেন। দেশে ফিরেই তাকে দায়িত্ব দেয়া হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানোর। এ যেন অন্ধের হাতি দেখার মত দায়িত্ব দেয়া।

পাকিস্তানের রেখে যাওয়া রাজাকার জামাতি মার্কা আমলা কামলা প্রশাসনের ওপর ভরসা করে তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। ফলে জিয়ার মত পাকিস্তানি গুপ্তচর পেয়ে গেল বীর উত্তম খেতাব। এরকম বহু পাকিস্তান ঘেঁষা ও মুসলিম লীগ পরিবারের সন্তানরা স্বাধীনতার বিভিন্ন পদক ও সম্মানে ভূষিত হোন।

তারাই পরবর্তীতে বিএনপি ঘরানার রাজনীতি করে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করে। গুপ্তচর জিয়াকে বানায় স্বাধীনতার ঘোষক। এরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেদের দাবি জানালেও চিন্তা মননে পাকিস্তানি ও কট্টর সাম্প্রদায়িক।

বঙ্গবন্ধুকে দিয়ে স্বাধীনতার সর্বোচ্চ খেতাব বীর শ্রেষ্ঠ উপাধি দেয়া হয় সামরিক বাহিনীর লোকদের। এ যেন বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ। এমন একটা ধারণার জন্ম দেয়া হয় এসবের মধ্য দিয়ে। অথচ মুক্তিযুদ্ধ করল এদেশের কৃষক, কামার, কুমার, তাঁতি, জেলে, ছাত্র-অছাত্র, নারী, পুরুষ, চাকরিজীবী, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। তাদের কেউ যোগ্য হলো না বীর শ্রেষ্ঠ খেতাবের জন্য।

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যালে দেইল্লা রাজাকারের বিচার চলার সময় শুনি দেলুর দল পাকিস্তানি সেনাদের এক নারীকে হত্যা করতে বলে। সেই নারীর অপরাধ, তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের খবর সংগ্রহ করতেন। পাকিস্তানের সেনারা সেই নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।পাক সেনারা সেই নারীর দুই পা দুই হাত দুই জীপের সঙ্গে বেধে দুই দিক থেকে টানতে থাকে। এক পর্যায়ে তার দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় হাত পা। আমরা পেরেছি কি সেই নারীর পরিবারকে সম্মান জানাতে?

কাদের মোল্লার মামলায় জানা যায় কবি মেহেরুননেচ্ছাকে কীভাবে হত্যা করেছে কসাই কাদেরর দল। কবি মেহেরুননেছার লম্বা চুল ছিল। তাকে জবাই করা হয়। তারপর তার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে সেই মাথাকে চুল দিয়ে তার ঘরের ফ্যানের সঙ্গে বেধে রাখা হয়। মেহরুন নেচ্ছার পরিবার কি কোনো সম্মান পেয়েছে? আমার জানা মতে এদের কেউ কোনো সম্মান পায়নি । অথচ তাদের ত্যাগের কথা আজ বেরিয়ে আসছে।

১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগে জামাতি রাজাকাররা বেছে বেছে হত্যা করলো তাদেরকে যারা পাকিস্তানিদের দৃষ্টিতে শত্রু ছিল। রাজাকাররা যাদের হত্যা করল তাদের মধ্যে পাকিস্তানের পক্ষত্যাগকারী সামরিক বাহিনীর লোক ছিল না। যদি বাংলাদেশের তৎকালীন সামরিক বাহিনী পক্ষ ত্যাগকারী সেনা কর্মকর্তারা রাজাকার ও পাকিস্তানিদের চক্ষুশূল হতো তাহলে খালেদা জিয়া নিহত হতেন পাকিস্তানিদের হাতে। বরং শোনা যায় সেদিন খালেদা জিয়া ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানি অফিসারদের অধীনে আরাম আয়েশে কাটিয়েছেন। জিয়ার ভাষণ সত্য হলে পাকিস্তান কেন তার স্ত্রীকে নির্যাতন করল না? সেটাই হতে পারে লাখ টাকার প্রশ্ন। বেঈমান বিশ্বাসঘাতককে সবাই হত্যা করবে এটাই তো দেখা যায়। জিয়া-অলিরা পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে কীভাবে পাকিস্তানের স্নেহ ভালোবাসা পায় সেটা নতুন প্রজন্মের জানা জরুরী।

বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি। যার প্রায়শ্চিত্ত তিনি নিজের জীবন দিয়ে শোধ করেছেন। আর তিনি যে ভুল মানুষকে খেতাব দিয়েছিলেন তার প্রমাণ আজ বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলে বেশি খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। আমার ধারণা, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের হাতে বন্দি না হয়ে যদি ভারতে চলে যেতেন, তবে মুক্তিযুদ্ধ দেখার সুযোগ পেতেন। দেশে ফিরে সেই সব চাষাভুষাদের ডেকে সবার আগে মুক্তিযোদ্ধার সম্মান দিতেন। এটা হলে সেদিন পাকিস্তানের অস্ত্র খালাস করা জিয়া-অলিরা কোনো খেতাব পেত না।

দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু খন্দকার মোস্তাকের মত মীরজাফর টাইপের লোকদের কথা বেশি শুনতেন। তাদের ওপর বেশি ভরসা করতেন। আর বিরক্তবোধ করতেন মীরজাফরদের সমালোচনা যারা করতেন।

২০১৮ সালের শেষ দিকে ভারতে যাই। সেবার আমার এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি লন্ডন থাকেন। তারই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে শেখ হাসিনা আমন্ত্রণ জানিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। তাকে সম্মাননা প্রদান করেন। সম্মান পাওয়া সেই ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ১৯৭৪ সালের ১৫ আগস্টের দিন কয়েক আগে তার বাড়িতে দেখা করেন। ইন্দিরা গান্ধীর বিশেষ বার্তা ছিল তার কাছে। নিরাপত্তা জনিত কারণে তিনি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে ভারতে চলে যাবার প্রস্তাব দেন। এতে বঙ্গবন্ধু ক্ষিপ্ত হয়ে যান। তাকে ভৎসনা করেন।

তিনি ফিরে আসেন। এ কথা তার বন্ধুকে মানে আমার সেই আত্মীয়কে লন্ডনে বলেন। বুঝলাম সেই সময়ে বঙ্গবন্ধু শত্রুদের দ্বারা এতটাই আবিষ্ট ছিলেন যে তাকে এদের সম্পর্কে বলাটা ছিল কঠিন এক কাজ। তিনি বিশ্বাসই করতেন না বাংলাদেশরই কেউ তাকে হত্যা করতে পারে।

শেখ হাসিনা মরতে মরতে এসব শিখেছেন। ১৫ আগস্ট যারা তার পরিবারকে হত্যা করেছে, সেই শক্তিই ২১ আগস্ট তাকে মারার চেষ্টা করে বিফল হয়। এটা শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকেরা জানে। সেদিন এটা সফল হলে বঙ্গবন্ধুর খুনি চক্র জেল থেকে বের হয়ে আসত।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হচ্ছে বিএনপি। এটা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হতে পারে কেন বিএনপি এই কাজ করতে গেল? মনে রাখতে হবে ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার আগে চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান ধরা পড়েছিল। এই চালান শিল্প মন্ত্রণালয়ের জেটি দিয়ে পার হচ্ছিল। তখন শিল্পমন্ত্রী ছিলেন কুখ্যাত মইত্যা রাজাকার (মতিউর রহমান নিজামী)। এদিকে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা জেল থেকে বের হওয়ার জন্য বিএনপির ওপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছিলো। বিএনপি এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না। বলতে গেলে তখনকার আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ এ নিয়ে খুনি চক্রের সঙ্গে টালবাহানা শুরু করে দিয়েছিল। তাই সিদ্ধান্ত হয় শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড দিয়ে মেরে খুনিদের বের করে আনা। শেখ হাসিনা মারা গেলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি শেষ। তখন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার নিয়ে কেউ কথা বলবে না। হবে না কোনো আন্দোলন সংগ্রাম। এটা মাথায় রেখেই সেদিন গ্রেনেড হামলা হয়েছিল। আর যেসব গ্রেনেড দিয়ে হামলা হয় সেগুলো দশ ট্রাক অস্ত্রের চালান থেকে পাওয়া আর্জেস গ্রেনেড। বিএনপি নেতা পিন্টুর হাত দিয়ে এসব গ্রেনেড হামলাকারীরা পায়।মুফতি হান্নানের জবাববন্দি অনুসারে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুর বাসায় ২১ আগস্ট নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়।

গ্রেনেড হামলার যে ভিডিওটি আমরা দেখতে পাই তাতে দেখা যায় আমার পরিচিত মুন্না ভাইকে। যিনি ঘটনাস্থলে শেখ হাসিনার পিছনে মাইকের তার নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন। আমি ভাবলাম মুন্না ভাই নিশ্চিত মারা গেছেন। পরে জানলাম মুন্না ভাই বেচে আছেন। সেদিন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানব ঢাল তৈরি করে নেত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়েছে। বলতে গেলে শেখ হাসিনা একটি বোনাস লাইফ পেলেন।

আমার মা বলেন, শেখ হাসিনা তার বাবা মা ভাই বোনের আয়ু পেয়েছেন বলে বার বার রক্ষা পাচ্ছেন। কথাটা আসলেই বিশ্বাসযোগ্য। শেখ হাসিনার ওপর ১৬ বার আক্রমণ করা হয়েছে। প্রতিবারই তিনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। কোটালি পাড়ায় ৫১ কুইন্টাল ওজনের বোমা পুতে রাখে জঙ্গি মুফতি হান্নান। সেটা বিস্ফোরিত হয়নি। তা না হলে সেদিনই শেখ হাসিনাসহ অনেকে মারা যেত। ঠিক একইভাবে ভাগ্যক্রমে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময় শেখ হাসিনার বসার ট্রাকে প্রথম যে গ্রেনেডটি এসে পড়ল তা বিস্ফোরিত হয়নি। পরের গ্রেনেডটি ট্রাকের বডিতে লেগে আইভি রহমানের পায়ের সামনে পড়ে। সেটি বিস্ফোরিত হলে আইভি রহমানের দুপা উড়ে যায়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইভি রহমান মারা যায়।

সেদিনের গ্রেনেড হামলায় মোট ২৪ জন নিহত হয় আহত হয় ৩০০ অধিক লোকজন। অনেকে আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে আছে। গ্রেনেড হামলার বিচার হয়েছে। সে বিচারে অসন্তোষ জানিয়েছে আহতদের কয়েকজন। তাদের মতে এ ঘটনায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফজ্জামান বাবরের মৃত্যুদণ্ড হলেও তারেক জিয়ার কেন যাবজ্জীবন হলো। পরে জানা গেল রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় তারেকের সাজার বিরুদ্ধে আপীল করা হবে। ১৫ বছর পার হয়ে গেল এখনো দোষীদের সাজা কার্যকর হলো না। এটা রাষ্ট্রের ব্যর্থতাই বলা উচিত।

আজ অনেকে দেশে গণতন্ত্র নাই বলে চিৎকার চেঁচামেচি করেন। গণতন্ত্র কাদের জন্য নাই? কেন নাই? সেটা বোঝার চেষ্টা করেন না। বিএনপি-জামাতের হত্যার রাজনীতির কারণেই দেশে আজ গণতন্ত্র নাই। দেশকে গুম খুনের দিকে ঠেলে দিয়েছে ওই বিএনপি জামাতই। সেদিন গ্রেনেড হামলার বিচার করতে গিয়ে জর্জ মিয়া নাটক সাজানো হয়। এরপর পার্থ সাহা নামে একটি হিন্দু ছেলেকে ওই মামলায় ফাঁসানো হয়। বিএনপি হয়ত জনগণকে বোঝাতে চেয়েছিল ভারতের ষড়যন্ত্রে এই গ্রেনেড হামলা।

এক পর্যায়ে দলটির রাজনীতিবিদরা বলতে থাকে আওয়ামী লীগই দেশের মানুষের সিমপ্যাথি অর্জন করতে নিজেদের লোক দিয়ে গ্রেনেড হামলা করিয়েছে। সেদিন দেশের সুশীল বামরা এসবের প্রতিবাদ করেনি। আজ বিএনপির নেতারা এসব কথা মনে করতে চান না। এখন তাদের নেতারা ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিতে চান। সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতার এমন ভিডিও ইউটিউবে ভাইরাল হয়েছে।

আমার দৃষ্টিতে শেখ হাসিনা অনেক উদার মনের মানুষ। তিনি এসব খুনি চক্রকে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে দিচ্ছেন। এখনো এই বিএনপি জামাত বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর পরিকল্পনায় যুক্ত আছে। এটা দেশের পুলিশ ও গোয়েন্দারা ঠিকই জানে। শোনা যায় রাজাকার শিরোমণি গোলাম আযমের বিচারের পর তার ছেলে আবদুল্লা হিল আমান আযমী নিখোঁজ। তেমনি মীর কাশেমের বিচারের পর তার ছেলে নিখোঁজ। এরা নিখোঁজ হয়ে কোন গ্রহে আছে, কে জানে? হয়ত তারা সেখানে বসে শেখ হাসিনার মৃত্যুর প্রহর গুনছে।

লেখক: সাংবাদিক