ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূর জীবনের নিরাপত্তা চাইলেন

নিউজ ডেস্ক: ভিন্নমতের ওপর হামলা বন্ধ করে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূর। একই সঙ্গে নিজ এলাকা পটুয়াখালীর গলাচিপায় তার ওপর হওয়া হামলার বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তিনি। গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান নুরুল হক নুর। গত বুধবার গলাচিপার উলানিয়া বন্দরে হামলার বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, কিছুদিন আগেও বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আপনি নিজেই বলেছেন, সরকারের সমালোচনা করতে বাধা নেই, দেশে ভিন্ন মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। তাই আপনার কাছে আমাদের অনুরোধ- ভিন্নমতের মানুষের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে আপনার দলের নেতা-কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিন। দেশে শাসন প্রতিষ্ঠায় দলীয় প্রভাবমুক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর করুন। ডাকসুর ভিপি হওয়ার আগে-পরে মোট ৮ বার ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছেন অভিযোগ করে নুর বলেন, প্রতিবার প্রকাশ্যে ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটলেও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যায়নি। পুলিশের নীরব ভূমিকা ছিল সন্ত্রাসীদের সহায়ক। সর্বশেষ ঘটনার দিনও গলাচিপা পুলিশের সহযোগিতা চাইলে ওসি কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতেও সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং পুলিশও আমার আত্মীয়, সমর্থকদের গ্রেফতারের হুমকি দেয়। সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে নগ্ন হামলা চালালেও ওসি হামলার কথা অস্বীকার করেন।

নুর বলেন, শুধু অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদ করার কারণেই আমি ও ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’-এর নেতা-কর্মীরা বার বার ক্ষমতাসীন দলের রোষানলের স্বীকার হয়েছি। ক্ষমতাসীন দলের নেতা ছাড়াও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছি। নুর বলেন, এমতাবস্থায় আমি আমার প্রাণনাশের শঙ্কাবোধ করছি। ছাত্রসমাজ তথা দেশবাসীর কাছে অনুরোধ, আপনারা আমার তথা অন্যায়ের-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হোন। এ সময় সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।