মিয়ানমারে আর্মি কলেজে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলা

নিউজ ডেস্ক:    মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে একটি মিলিটারি কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দেশটির উত্তরাঞ্চলে একটি অভিজাত সামরিক কলেজ ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশির ভাগই বর্মি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

স্থানীয় চার সশস্ত্র বিদ্রোহী দলের জোট নর্দার্ন অ্যালায়েন্স এই হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে, আগামী দিনগুলোতে এরকম আরও হামলার মুখোমুখি হতে হবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্রোহীদের হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল শান রাজ্যের পায়িন উ লউয়িন শহরের ডিফেন্স সার্ভিসেস টেকনোলজিক্যাল একাডেমি, যেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানো হয়। এছাড়া আরও চারটি জায়গায় বৃহস্পতিবার প্রায় একই সময়ে বিদ্রোহীরা হামলা চালায় বলে মিয়ানমারের সেনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র টুন টুন এনআই বলেন, নাওং চ শহরে পাশে গোকটেক ভায়াডাক্ট রেল সেতু এলাকায় বিদ্রোহীদের সঙ্গে সেনাদের লড়াই চলছিল। পরে আরও একটি সেতু পার হয়ে বিদ্রোহীরা পুলিশের একটি কার্যালয় আগুন লাগিয়ে দেয়। এই ঘটনায় সাত সেনা, পুলিশ সদস্য ও বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কলেজ ভবন এবং বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া পোড়া গড়ির ছবি এসেছে। লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে গোক টুইনের মাদক নিয়ন্ত্রণ পুলিশের দপ্তরের পাশে। মাইন ব্যবহার করে উড়িয়ে দেওয়া গোক টুইন সেতুর একটি ছবি প্রকাশ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইরাবতী।

মিয়ানমারের ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠী তাদের অধিকারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে আসছে।

হামলার দায় স্বীকার করে নর্দান অ্যালায়েন্সের সহযোগী আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইন তু খাই বলেন, বৃহস্পতিবারের হামলায় তাদের যোদ্ধার অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘বার্মা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জবাব দিতেই আমরা এই হামলা করেছি। আমাদের কমরেডদের ওপর হামলার জন্য এই জবাব দেওয়া হয়েছে।’