পশুর মতো খাঁচাবন্দি কাশ্মীরিরা: অমিত শাহকে মেহবুবা কন্যার

নিউজ ডেস্ক:   জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি গ্রেফতার আছেন। এদিকে রাজনীতি না করলেও তার মেয়ে ইলতিজা জাভেদ রয়েছেন গৃহবন্দি। কার্যত তিনি এখন অবরুদ্ধ। বহির্বিশ্বের সঙ্গে তার যোগাযোগের কোনও উপায় নেই। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে খোলা চিঠি লিখেছেন ইলতিজা জাভেদ।

মেহবুবা মুফতির মেয়ে ভয়েস মেসেজে ও একটি চিঠি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, তার মা গ্রেফতার হওয়ার কয়েক দিন পরে তাকে তার বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে।

ইলতিজা বলেন, ‘পশুর মতো খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয়েছে কাশ্মীরিদের। কেড়ে নেওয়া হয়েছে তাদের মানবাধিকার। এমনকি সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললে তাকে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছে।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনীতিতে পা রাখেননি ইলতিজা। তা সত্ত্বেও দিন কয়েক আগে তাকে গৃহবন্দি করা হয়। কিন্তু তাকে কেন গৃহবন্দি করা হয়েছে, এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে থেকে এখন পর্যন্ত কোনও জবাব মেলেনি। তাই বৃহস্পতিবার সরাসরি অমিত শাহকেই চিঠি লিখেন ইলতিজা। কিন্তু সেই চিঠি পাঠানোর মাধ্যম বন্ধ থাকায় পরে একটি ভয়েস মেসেজ দেন।

তিনি লিখেন, ‘আমাকে কেন বন্দি করে রাখা হয়েছে, একাধিক বার তা জানার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাতে সফল হইনি। তাই চিঠি লেখা ছাড়া অন্য উপায় ছিল না। নিজের মৌলিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম। আশা করি, তার জন্য নিশ্চয়ই এমন শাস্তি পেতে হচ্ছে না। এর উত্তর আপনি নিশ্চয়ই জানবেন।’

কারও সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তুলেছেন ইলতিজা। তিনি লিখেছেন, ‘কেউ দেখা করতে এলে তাকে জানানো পর্যন্ত হয় না। বাইরের দরজা থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ঘরের বাইরে পা রাখার অনুমতি নেই আমার। চিরকাল এক জন দায়িত্বশীল নাগরিকের কর্তব্য পালন করেছি। কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও যুক্ত নই। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, কিছু সংবাদপত্র এবং ওয়েবপোর্টাল আমার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে, তাই আটকে রাখা হয়েছে আমাকে।’

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, গৃহবন্দি অবস্থায় ১০ দিন অতিবাহিত করেছেন মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা জাভেদ। এছাড়া এখনও জম্মু ও কাশ্মীরের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা গ্রেফতার অবস্থাতেই রয়েছেন। এছাড়া ব্ল্যাকআউটের অংশ হিসেবে, কাশ্মীর উপত্যকায় ফোন সেবা এবং ইন্টারনেট সংযোগ স্থগিত রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই উপত্যকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করলেও এখনও পর্যন্ত সেখানে প্রবেশের অনুমতি পায়নি সংবাদমাধ্যম।