ঈদযাত্রায় দুই ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

নিউজ ডেস্ক:     ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে যেন জনস্রোত তৈরি হয়েছে ঢাকার সড়ক, রেল আর নৌপথে। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার তাগিদ থাকা অসংখ্য মানুষ রাজধানী ছেড়ে ছুটছেন গন্তব্যে। তবে মহা সড়কে ধীরগতিতে যানবাহন চললেও শুক্রবার সকাল পর্যন্ত যানজট প্রকট আকার ধারন করার খবর পাওয়া যায়নি। দুই ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি থাকলেও আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকার নৌযান চলাচলে ব্যাহত হচ্ছে না।

শুক্রবার ভোর থেকে ঘর ফেরত মানুষের চাপ বেড়েছে রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদসহ আরও কয়েকটি বাসস্ট্যান্ড, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ও সদরঘাটে।

এদিকে ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে কমলাপুর স্টেশনে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে ভ্রমণ করছেন। এদিকে ঈদযাত্রাকে ঘিরে বরাবরের মতো এবারও শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ট্রেন

মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে বানবাহনের চাপ বেড়েছে। শুক্রবার সকালে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকায় ফেরি চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ১৭টি ফেরি চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন বিআইডাব্লিউটিসি’র শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. নাসির।

তিনি গণমাধ্যমকে জানান, শিমুলিয়া ঘাটে পারের অপেক্ষায় রয়েছে ৫ শতাধিক যাত্রীবাহী গাড়ি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ গাড়ির চাপ আরো বাড়বে। রাতে ১২টি ফেরি নৌরুটে চলাচল করেছে। আজ সকাল থেকে আবহাওয়া ফেরি চলাচলের জন উপযোগী রয়েছে। এরকম পরিস্থিতি থাকলে ফেরি চলাচলে কোনো সমস্যা থাকবে না ও গাড়ির চাপ থাকলেও কমে আসবে। গেল দু’দিন নদীতে তীব্র ঢেউ ও বৈরী আবহাওয়া থাকায় ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়েছিল।

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরমুখো মানুষদের কারণে চাপ বেড়েছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ রুটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার ভোর থেকেই পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনের বাড়তি চাপ রয়েছে। বিশেষ করে ছোট গাড়ির চাপ সবচেয়ে বেশি। সকাল সাড়ে ৯টায় পর্যন্ত বাস, ছোট গাড়ি, ফিরতি গরু ট্টাক মিলিয়ে প্রায় ছয় শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। ছোট বড় ১৯টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হলেও থেমে থেমে বৃষ্টি ও বাতাসে নদী উত্তাল রয়েছে। এ কারণে পারাপারে সময় লাগছে বেশি। ফলে যানবাহনগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পারের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, যানবাহনের চাপ বাড়লেও সুশৃ্ঙ্খলভাবে ফেরি পার হচ্ছে। গাড়ির দীর্ঘ সারি থাকলেও কোনো যানজট নেই।

রাজধানী ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী গাড়ির চাপে শুক্রবার ভোর থেকে টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের মির্জাপুর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত প্রায় ৪০ কি. মি. রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে থেমে থেমে চলছে গাড়ি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো হাজার হাজার মানুষ।

সকাল থেকেই রাবনা বাইপাস এবং এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাড়ি পার হতে বেশি সময় লাগছে। সকালে দুটি জায়গায় রাস্তার মধ্যে গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ায় যানজটের তীব্রতা বেড়ে যায়। পরে জরুরি ভিত্তিতে বিকল হয়ে যাওয়া গাড়ি দুটিকে সরানো হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

তবে কোরবানির পশু বোঝাই ট্রাক ধীর গতিতে চলার কারণে রাস্তায় যানজট বেশি হচ্ছে বলে মনে করেন পৌলী বাজারের ব্যবসায়ী মো. কাদের আলী। বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায়ে বেশি সময় লাগার কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে বলে জানান ট্রাকচালক জয়নাল মিয়া।

কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান আল মামুন জানান, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশের প্রায় ৮০০ সদস্য। সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করছেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।