আগামীতে ঘাতক রোবট হবে যুদ্ধের সৈনিক

 সুমন দত্ত: মানুষের বিকল্প যন্ত্র হতে পারে না। যন্ত্রের নেই আবেগ অনুভূতি। তবে প্রযুক্তির বিকাশে মানুষ হয়ে পড়ছে যন্ত্র নির্ভর। বাড়ছে যান্ত্রিকতা। একসময় মানুষ যন্ত্রের কাছে হার মানবে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ( কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রয়োগে মানুষ তৈরি করছে রোবট। যে রোবট আগামীতে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে। এতে মানুষের নিরাপত্তা পড়বে হুমকির মুখে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আমাদের সিদ্ধান্ত কেড়ে নিচ্ছে রোবট শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আইসিএস (দ্যা ইন্সটিটিউট অব কমিউনিকেশনস স্টাডিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বক্তারা। ঘাতক রোবট নিষিদ্ধের প্রচারাভিযানের লক্ষ্যে এই সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান হয়। এতে অংশ নেন সোসাইটি ফর সোশ্যাল এন্ড ইকোনোমিকস ডেভেলপমেন্টের সিইও সৈয়দ তামজিদ উর রেহমান, আবুল কাসেম খান ও অধ্যাপক নাঈমা। সৈয়দ তামজিদ উর রহমান বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রোবট বহু মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে।

বর্তমানে প্রযুক্তির এই যুগে মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছে। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রোবট তৈরিতে অনুপ্রেরণা যোগায়। মানুষই ঠিক করে দিচ্ছে রোবটকে কি করতে হবে। একটা সময় রোবট নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত নেবে। কারণ তাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে দেয়া হবে। তখন রোবটের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে বিশ্ব। এই রোবটকে যেমন মানুষের উপকারে কাজে লাগানো যায় ঠিক তার উল্টোটাও করানো যায়। যেমন রোবটকে দিয়ে মানুষ খুন করানো যায়। তার জন্য রোবটের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয় ফেস রিকগনিশন নামের একটি পোগ্রাম। রোবট এই ছবির সঙ্গে যার মিল পাবে তাকেই সে টার্গেটে নিবে। তাই এই ঘাতক রোবটের হাতে আমরা সবকিছু ছেড়ে দিতে পারি না।

তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে আজ এই রোবট ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। রাশিয়া আমেরিকা ও চীন কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর। তাই আগামীতে যে যুদ্ধ হবে তা বর্তমান যুদ্ধের মতো হবে না। সেখানে সেনা প্রেরণ করা হবে না। রোবটরা নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারে। তাই অনেক চাকরিজীবীর কাজ খেয়ে নিতে পারে রোবট। একসময় রেলের ইঞ্জিনে কয়লা দেবার জন্য লোক ভাড়া করা হতো। এখন ইঞ্জিন আধুনিক হওয়ায় লোক ভাড়ার প্রয়োজন পড়ে না। বিদ্যুৎ শক্তিতেও রেলের ইঞ্জিন চলে। ঠিক একই ভাবে রোবট যে কাজগুলো করতে পারবে সেই সব কাজ মানুষকে দিয়ে আর করানো হবে না। এমনকি কৃষিকাজেও লোক ভাড়া করতে হবে না। তাই যারা কাজ হারাবে তাদের অন্য কাজে রিপ্লেস করতে হবে। তবে আজকের বিষয় আমরা ঘাতক রোবট সম্পর্কেই বলতে চাই।এই রোবট যাতে তৈরি না হয় সেজন্য বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

ঢাকানিউজের সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশে পণ্যের চাহিদা আছে। তাই পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে মালিকপক্ষ যদি রোবটকে কাজে লাগায় তবে চাকরি হারাবে বহু শ্রমিক। এ সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে? জবাবে তামজিদ বলেন, আমরা একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে চাই। আমরা রোবটের কাছ থেকে কতটুকু সাহায্য নেব সেটা নির্ধারণ করে দিতে হবে। একটি লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে এ কাজটি করতে হবে। যারা চাকরি হারাবে তারা ভবিষ্যতে কোন ধরনের কাজ করবে সেটা নীতি নির্ধারকরা ঠিক করবেন। তবে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই কাজে টিকে থাকতে হবে।