ভারতের দূতকে বরখাস্ত করল পাকিস্তান, বাণিজ্য বন্ধ

নিউজ ডেস্ক:    ভারতের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ করাসহ দেশটির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পাকিস্তান। নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর  বুধবার পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যকে ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেখানকার বিশেষ মর্যাদা বা ৩৭০ ধারাও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ভারতের সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তান আজ পাঁচটি পদক্ষেপ নিয়েছে।

১. ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করা

২. ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বন্ধ করা

৩. দ্বিপাক্ষিক চু্ক্তি পুনর্বিবেচনা করা

৪. বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদসহ রাষ্ট্রসংঘের দ্বারস্থ হওয়া

৫. ১৪ আগস্ট দিনটিকে বীর কাশ্মীরীদের প্রতি সহমর্মিতা জানানো

রাজধানী ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি বা এনএসসি’র ওই বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘বৈঠকে ভারত সরকারের একতরফা সিদ্ধান্ত ও অবৈধ পদক্ষেপ, ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরের ভেতরের এবং নিয়ন্ত্রণ রেখার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।’

বিবৃতিতে আর বলা হয়, কাশ্মিরের বীর জনগণের সংগ্রামের প্রতি সংহতি জানিয়ে আগামী ১৪ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হবে। পাশাপাশি ১৫ আগস্ট পাকিস্তান কালো দিবস পালন করবে। ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সেনা নেতৃত্বকে সীমান্তে সতর্ক থাকারও নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পারভেজ খাট্টাক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি, জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল যুবায়ের হায়াত, সেনাপ্রধান জেনারেল কামার আব্বাস, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল জাফর মেহমুদ আব্বাসি, বিমান বাহিনীর প্রধান মার্শাল মুজাহিদ আনোয়ার খান, আইএসআই মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফাইয়াজ হামিদ এবং অন্য কর্মকর্তারা।