ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের দাবি

নিউজ ডেস্ক:    আসন্ন ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের ২৪ দফা দাবি:

ঈদুল আযহা আসন্ন। কয়েকদিনের মধ্যেই রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় দেড় কোটি মানুষ আপনজনের সাথে ঈদ উদযাপনের জন্য দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা করবে। অতি অল্পসময়ে এত বিপুল সংখ্যক ঘরমুখী মানুষের চাপে সারা দেশের সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহনে এক ধরনের অব্যবস্থাপনা ও অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশেষ করে সড়ক পরিবহনে দেখা দেয় চরম নৈরাজ্য। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়ে বহু মানুষ আহত-নিহত হয়। এসব দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে নেমে আসে শোকের মাতম। এটি প্রতিবছরের ঈদ মৌসুমের চিত্র। এই প্রেক্ষাপটে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন আসন্ন ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নিম্নোক্ত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের আহবান জানাচ্ছে।

১. ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে;

২. অদক্ষ, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক কর্তৃক যানবাহন চালনা বন্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;

৩. বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন না চালাতে চালকদের উৎসাহিত করতে হবে; এক্ষেত্রে পরিবহন মালিকদের বিশেষ নির্দেশনা দিতে হবে;

৪. যানবাহন চালানো অবস্থায় মোবাইলে কথা বলা থেকে চালকদের বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দিতে হবে এবং এক্ষেত্রে যাত্রীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;

৫. ফাকা রাস্তায় অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চালনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;

৬. ভ্যান, রিকশা, নসিমন, করিমন, ভটভটি ইত্যাদি যানবাহন মহাসড়কে চলাচল বন্ধে কঠোর হতে হবে;

৭. ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মোটর বাইক চালানো বন্ধে কঠোর হতে হবে;

৮. যৌক্তিক কারণ ব্যতীত মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে পুলিশের কাগজপত্র চেক করা বন্ধ করতে হবে;

৯. পরিবহন টার্মিনালসমূহে যাত্রী হয়রানি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;

১০. অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও নজরদারী বাড়াতে হবে;

১১. পরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে না উঠতে জনসাধারনের মধ্যে প্রচারণা চালাতে হবে;

১২. যানবাহনের ছাদে যাত্রীবহন বন্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;

১৩. সড়ক-মহাসড়কে যাত্রীবাহী ও পশুবাহী যানবাহনে চাঁদাবাজি কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে;

১৪. সড়কের উপরে ও সড়ক ঘেঁষা পশুহাটসহ সকল প্রকার হাট-বাজার উচ্ছেদ করতে হবে;

১৫. সড়ক-মহাসড়কের উপর তোরণ, গেট ইত্যাদি নির্মাণ নিষিদ্ধ করতে হবে;

১৬. মহাসড়কে বিকল হওয়া বা দুর্ঘটনাক্রান্ত যানবাহন দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;

১৭. ভাঙা ও চলাচল অনুপোযোগী সড়ক অতিদ্রুত যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে হবে;

১৮. ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;

১৯. নৌ-টিার্মিনালগুলোতে যাত্রী হয়রানি বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;

২০. অনুমোদিত ও অননুমোদিত সকল রেল ক্রসিংয়ে সার্বক্ষনিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে;

২১. মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে লেন মানতে বাধ্য করতে হবে;

২২. ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রীবাহী পরিবহন পারাপারে সু-ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে;

২৩. সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য দেশের সকল হাসপাতালসমূহ

প্রস্তুত রাখতে বিশেষ নির্দেশনা দিতে হবে;

২৪. ঈদ পূর্ব যাত্রার মতো ঈদ পরবর্তী যাত্রায়ও সড়ক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে। কারণ ঈদ ফিরতি যাত্রায় ব্যাপক দুর্ঘটনা ঘটে।