মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন আরও ৪৬ বীরাঙ্গনা

নিউজ ডেস্ক:  একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নির্যাতিত আরও ৪৬ বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৬২তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৯ জুলাই গেজেটও জারি করা হয়েছে। এ নিয়ে ২০১৫ সালের ১২ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৩২২ বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন। তারা প্রতি মাসে ভাতাসহ মুক্তিযোদ্ধাদের মতো অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ৪৬ বীরাঙ্গনা হলেন- টাঙ্গাইলের মোছা. রবিজান বেওয়া, কিশোরগঞ্জের আমেনা খাতুন, সিলেটের কোকিলা বেগম, রেজিয়া বেগম, মায়া বিবি, জয়গুন নেছা, ললিতা সমসুদ্র, শহর বানু, ময়মনসিংহের জয়ন্তী বালা দেবী, দিনাজপুরের উম্মে কুলসুম বেওয়া, ফরিদপুরের আরতি রানী ঘোষ, বরগুনার দিপ্তী রানী পাল, যশোরের মোসা. সালেহা খাতুন, বাগেরহাটের তরুশীল, নাটোরের মালতি কস্তা, জয়পুরহাটের মোছা. ফিরোজা বেগম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোসা. রহিমা বেগম, গোপালগঞ্জের রানী বণিক, বগুড়ার মীরা রানী সরকার, কুমিল্লার বেগম ফুলবানু, মাদারীপুরের চিন্তাময়ী বাড়ৈ, আরতি রানী সাহা, পিরোজপুরের তারামনি মিস্ত্রী, নওগাঁর মায়া বালা, সুষমা বালা, ক্ষান্ত বালা পাল, রাশমনি সুত্রধর, রেনু বালা পাল, সন্ধ্যা রাণী পাল, সুষমা পাল, কালী রাণী পাল, গীতারাণী পাল, বাণী রাণী পাল, চট্টগ্রামের বেগম রত্না চক্রবর্তী, রাজশাহীর মোছা. ফিরোজা বেগম, মোসা. আঙ্গুরা বেগম, নরসিংদীর জোসনা বেগম, হাছিনা, হাজেরা খাতুন, ঝিনাইদহের নিহারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাজেরা ওরফে কুটি, শেরপুরের অজুফা, মোছা. করফুলি, দিনাজপুরে মোছা. শেফালী বেগম, সিরাজগঞ্জের মোছা. আনোয়ারা বেগম এবং বগুড়ার মোসা. রহিমা খাতুন বেলী।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে সমকালে মুক্তিযুদ্ধে ১২৬ জন বীরাঙ্গনার অবদান ও দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে ১২ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। পরে ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট করে একটি বেসরকারি সংগঠন। ওই রিটে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি বীরাঙ্গনাদের স্বীকৃতি দিতে জাতীয় সংসদে আইন পাস করে সরকার। এরপর এ পর্যন্ত ৩২২ জনকে বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। স্বীকৃতিপ্রাপ্তদের মধ্যে সমকালে নাম প্রকাশ হওয়া ৮৭ জন বীরাঙ্গনা রয়েছেন। বর্তমানে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ১২ হাজার টাকা ভাতা পান।

গেজেটভুক্ত বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধারাও একই সমান ভাতা পাবেন। এ ছাড়া সরকারি চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবাসহ সব ক্ষেত্রে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবারের সদস্যরা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান, তার সবটাই পাবেন বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যরা।