গুম খুনের প্রশ্ন উত্তর এড়িয়ে যান আইনমন্ত্রী

সুমন দত্ত: জাতিসংঘে নির্যাতন বিরোধী কমিটিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে তাতে মানবাধিকারের হরণের বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। গুম খুন ও সরকারি সংস্থার হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনাগুলো সম্পর্কে কোনো জবাব দেননি আইনমন্ত্রী।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়। এ সময় কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট জৌর্তিময় বড়ুয়া, রেজাউল করিম সিদ্দিকি, শিরিন হক প্রমুখ।

বাংলাদেশ জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী সনদে স্বাক্ষর করেছে ১৯৯৮ সালের ৫ অক্টোবর। ২০ বছর পর বাংলাদেশ প্রথম প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করে। ইতিপূর্বে কোনো সরকারই নির্যাতন বিরোধী কমিটিতে তাদের প্রতিবেদন পেশ করেনি।

গত ৩০ ও ৩১ জুলাই জেনেভাতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সামনে জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী কমিটির প্রতিনিধিরা মানবাধিকার সংক্রান্ত শতাধিক প্রশ্ন উত্থাপন করে। অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেনে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এ সম্পর্কে বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, আমরা জানি ১০০ বছর আগে ব্রিটিশরা আইন তৈরি করেছিল আসামী গ্রেফতার হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে। কিন্তু পুলিশ অঘোষিত গ্রেফতার করে। সে বিষয়ে আপনার কোনো বক্তব্য নেই। তা রোখার জন্য কোনো আইন নেই। আপনি আইনমন্ত্রী আইন আছে বলে গেলেন। কিন্তু এই আইন কীভাবে প্রয়োগ হচ্ছে তার বিষয়ে আলোকপাত করলেন না। বাংলাদেশে এমন কিছু লোক আছে যারা হিটলার পলপটের মত বিশ্বাস ধারণ করেন। তারা মনে করে কিছু মানুষকে মেরে ফেললে সব ঝামেলা শেষ হয়ে যাবে। যেমন হিটলার মনে করতেন ইহুদীরা না থাকলে দেশের মঙ্গল। এভাবে তিনি ৬০ লাখ ইহুদী মেরে ফেলেন। ঠিক একই ভাবে পলপটসহ অন্যরা একই কাজ করত। আজ বাংলাদেশে যারা এসব করছে তারা ওই বিশ্বাস থেকেই করছে। তারা বুঝতে পারছে না রাষ্ট্র একটি অকার্যকর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে। সিরিয়া লিবিয়া এক সময় উন্নত ছিল। অনেক উন্নয়ন হয়েছিল সেখানে। এখন তাদের অবস্থা কি? জনগণের ওপর স্বৈরাচারী শাসন চাপিয়ে দিলে সেই উন্নয়ন বেশিদিন স্থায়ী হয় না।

আইনজীবী জৌর্তিময় বড়ুয়া বলেন, পুলিশ যাদেরকে রিমান্ডে নিচ্ছে তাদের নির্যাতন করে জবানবন্দি নেয়া হয়। অথচ পুলিশ জানে না যখনই কোনো অভিযুক্তর ওপর পুলিশ নির্যাতন করে তখন তারা আর অভিযুক্ত থাকে না। তারা ভিকটিমে পরিণত হোন। সেক্ষেত্রে তারা সুরক্ষা পাওয়ার দাবিদার হয়ে যান। কিন্তু বাংলাদেশে এই সুরক্ষা কে দেবে। এজন্য কোনো আইন নেই। সাংবাদিক শহীদুল আলমের ওপর নির্যাতন করা হয়েছিল।তার সুরক্ষা চাইতে গিয়ে সরকার বলার চেষ্টা করেন তিনি ঠিক আছেন পাগল হননি।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, সরকার যদি প্রতিবেদন পেশ করার সময় আমাদের ডাকতো তবে আমরা কেউ না কেউ সেখানে যেতাম। সরকার আমাদের কোনো চিঠি দেয়নি। যে কারণে একটি কি দুটি সংস্থা ছাড়া কেউ বাংলাদেশ থেকে ওই প্রতিবেদন পেশ করার সময় যায়নি।

রেজাউল করিম সিদ্দিকি বলেন, বাংলাদেশে গত ২০ বছরের অপরাধীর মানসিকতার পরিবর্তন ঘটেছে। অপরাধীর হাত থেকে বাচতে পারছে না প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুরাও। শ্রবণ প্রতিবন্ধীরাও হত্যার শিকার হচ্ছে নির্মমভাবে। অপরাধী মনে করছে তাদের ওপর যেসব নির্যাতন করা হয় তারা তা বুঝতে পারে না। কারণ সে মনে করে তারা বোধ শক্তিহীন। এটা একটা নতুন উপলব্ধি অপরাধীদের। যা আগে কখনই দেখা যায়নি।

শিরিন হক বলেন, হিউম্যান রাইটস কমিশন ও অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গুম খুনের বিষয়ে চিঠি দিয়েছিল। সেগুলোর জবাব আসেনি। গুমের বিষয়গুলো সম্পর্কে কোনো রিপোর্টই দেয়া হয়নি।