যুক্তরাষ্ট্রে আরো চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপ

নিউজ ডেস্ক:   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের আরো ৩০ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। স্মার্টফোন, পোশাকসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির চীনা পণ্যে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও চীনের হাজার হাজার কোটি ডলারের রপ্তানি পণ্যে শুল্ক দিয়েছিল। বেইজিংও পরে মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক বসায়। দুই দেশের এই ‘শুল্ক যুদ্ধ’ বিশ্ববাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে—বিশ্লেষকদের এমন আশঙ্কার মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা কমাতে চলতি বছর ওয়াশিংটন ও বেইজিং কয়েক দফা বৈঠকও করেছে।

গত সপ্তাহে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সর্বশেষ বৈঠকের পরই ট্রাম্প নতুন করে আরো ৩০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যে শুল্ক বসালেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণার ফলে ‘কার্যত’ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা সব চীনা পণ্যেই শুল্ক বসতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার টুইটারে ট্রাম্প নতুন এ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। চীনের ২৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে যে আগে থেকেই ২৫ শতাংশ শুল্ক আছে, তাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। সাংহাইয়ে গত সপ্তাহের বৈঠকে চীন ‘আরো বেশি মার্কিন কৃষিপণ্য নেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে সম্মান’ না দেখানোয় ট্রাম্প দেশটির কড়া সমালোচনা করেন। তার পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ফেনটানিল বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ‘বন্ধু’ শি জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে অসন্তোষও ফুটে উঠে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরে সাংবাদিকদের জানান, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যে ‘স্বল্প সময়ের’ জন্য এ ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ধাপে ধাপে বেড়ে এটি ২৫ শতাংশও ছাড়িয়ে যেতে পারে। “চীনের সঙ্গে এমনটা কারো না কারো অনেক আগেই করা উচিত ছিল,” বলেন তিনি।

নতুন এ শুল্ক নিয়ে বেইজিংয়ের তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। সাংহাইয়ের বৈঠকের পর চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ চলছে জানিয়ে সেপ্টেম্বরে আরেক দফা বৈঠকের সূচি ঘোষণা করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার অব কমার্স চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপের ফলে মার্কিন ব্যবসায়ীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে জানিয়ে দুই পক্ষকেই একে অপরের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নিতে অনুরোধ করেছেন।

বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে; বুধবার তারা এক দশকের মধ্যে প্রথমবার সুদের হার কমিয়েছে।