ভিন্নমতের অবস্থান নিশ্চিতকরণে গান্ধীর জীবন অনুসরণীয়’

নিউজ ডেস্ক:   জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেছেন, ‘মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। এ মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও তারা পরস্পরকে শ্রদ্ধা করতেন। বর্তমান সমাজে অসাম্প্রদায়িকতা ও ভিন্নমতের অবস্থান নিশ্চিতকরণে মহাত্মা গান্ধীর জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষা আমাদের অনুসরণীয়।’

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জয়ন্তী উপলক্ষে বছরব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘হিংসামুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে গান্ধীর চিন্তা ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘মহাত্মা গান্ধী স্মারক সদন’ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সংগঠনটির চেয়ারম্যান সৈয়দ আবুল মকসুদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারাকপুরে অবস্থিত গান্ধী স্মারক সংগ্রহালয়ের ডিরেক্টর-সেক্রেটারি প্রতীক ঘোষ। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।

অনুষ্ঠানে আনিসুজ্জামান বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধী এক দিনে মহাত্মা হয়ে ওঠেননি। তার জীবনের বিভিন্ন কর্মের মাধ্যমেই তিনি মহাত্মা হয়েছিলেন। আমরা সবাই জানি, মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে সত্যাগ্রহ আন্দোলন করেছিলেন। এর জন্যে তিনি ব্রিটিশ সরকারের অনেক নির্যাতন সহ্য করেছেন।’

তিনি বলেন, গান্ধীর নেতৃত্বে পাঞ্জাবের অমৃতসরের মানুষ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের পর রবীন্দ্রনাথ তাকে প্রতিবাদ করতে বললে তিনি বলেছিলেন যে, তিনি সরকারকে বিব্রত করতে চান না। এটি দুঃখের বিষয়। তা সত্ত্বেও তার অসহযোগ আন্দোলনে ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

সভাপতির বক্তব্যে আবুল মকসুদ বলেন, ‘গান্ধীজী জীবনের দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে অবস্থান করেছেন। এ দেশের বিভিন্ন জেলায় সফর করে শান্তির বাণী ছড়িয়ে দেন। তিনি সবসময় মানবিক, স্বনির্ভর, শোষণ-বঞ্চনাহীন সমাজের কথা বলেছেন।’ তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে-দেশে, সমাজে মানুষের ওপর নিপীড়ন, অন্যায়-অবিচার চলছে। এই পরিস্থিতিতে গান্ধী অনেক প্রাসঙ্গিক। এসব বন্ধে গান্ধীর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে মহাত্মা গান্ধী স্মারক সদন প্রকাশিত ‘গান্ধী পরিক্রমা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্র এবং লালনসঙ্গীত পরিবেশন করেন।