প্রিয়া সাহার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেশে আসার পর: হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ

সুমন দত্ত: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রিয়া সাহার সাক্ষাতের কারণে কিংবা তার বক্তব্যের কারণে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেনি। প্রিয়া সাহা নিজেকে ভুলভাবে পরিচয় করানোর কারণে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বিষয়ে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। দেশে আসার পরই প্রিয়া সাহার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংগঠন। এছাড়া বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক নির্যাতন অব্যাহত আছে তবে অতীতের যেকোনো সময়ের চাইতে সংখ্যালঘুরা এখন নিজেদের বেশি নিরাপদ ভাবছেন এমন প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি হলে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর কালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্যরা ও বর্তমান সভাপতি ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, প্রিয়া সাহা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যা বলেছে তার সঙ্গে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ পুরোপুরি একমত নয়। বাংলাদেশ থেকে তিন কোটি ৭০ লক্ষ হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, ডিসেপিয়ার হয়ে গেছে। এটা যদি তিনি মিন করে থাকেন তবে তা অসত্য। সংগঠন এ কথার তীব্র নিন্দা জানায়। তবে তিনি যদি এ সংখ্যা দেশ ভাগের পর থেকে মিন করে থাকেন মানে ১৯৪৭ সালের পর থেকে ধরেন তবে তার কথা সত্য বলে মেনে নেয় সংগঠন। এ কারণে দেশে আসার পরই তার কাছে জানতে চাওয়া হবে তিনি ডিসেপিয়ার বলতে কি বোঝাতে চেয়েছেন? কবে থেকে তা হচ্ছে? তবে প্রিয়া সাহার পৈত্রিক বাড়ি দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হয়েছিল। আগুনে পোড়ানো হয়েছিল। তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বিচার চেয়েছিলেন। সেখানকার মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের কাছে আমার (রান দাশগুপ্তের) উপস্থিতিতে সাহায্যে প্রার্থনা করেছিলেন। মন্ত্রী তার কথা শুনতে পর্যন্ত চাননি। এদিকে বিভিন্ন মিডিয়ায় কতিপয় লোকজন দিয়ে বলানো হচ্ছে প্রিয়া সাহা নাকি নিজে তার পৈত্রিক বাড়িতে আগুন লাগিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ থেকে তিনজন প্রতিনিধি আমেরিকা গিয়েছিলেন। তারা হলেন অশোক বড়ুয়া, নির্মল রোজারিও ও নির্মল চার্টাজী। প্রিয়া সাহা নিজ উদ্যোগে সেখানে গিয়েছিলেন। আর তিনি সেখানে নিজেকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও রানা দাশগুপ্তকে সভাপতি বলেছিলেন। বাস্তবে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি তিনজন এরা হলেন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব:) সি আর দত্ত (বীর উত্তম), হিউবার্ট গোমেজ ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংহতি সমিতির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান উষাতন তালুকদার।

রানা দাশগুপ্ত আরো বলেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের একটি বিশেষ টিম প্রিয়া সাহার পৈত্রিক বাড়িতে গিয়েছিল। সেই টিমের প্রধান ছিলেন ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক। তিনি সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা খুঁজে পেয়েছিলেন। তারপর সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়। সেদিন সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়া সাহার বিষয়টির পাশাপাশি জেলে আইনজীবী পলাশ রায়কে পুড়িয়ে হত্যা, প্রবীর সিকদারের বাড়িতে হামলা ও জঙ্গি গোষ্ঠী কর্তৃক বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, ড. মুনতাসির মামুন ও শাহরিয়ার কবিরকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল।

পরিশেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মুক্তমনাদের হত্যা, ব্লগার হত্যা, মন্দির মঠ ও বিগ্রহ ভাঙ্গার পর এর বিচার না হওয়ায় দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকারের কাছে সংগঠনের আবেদন এসব ঘটনার বিচার যেন দ্রুততার সঙ্গে করা হয়। তা না হলে জনমনে বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হবে।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম