মুসলিম শিক্ষার্থীদের প্রসাদ খাওয়ানো হয়নি, আইনি জবাব দেয়া হবে : ইসকন

সুমন দত্ত: আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ(ইসকন) বাংলাদেশে মুসলিম শিক্ষার্থীদের দেব দেবীর প্রসাদ খাওয়ানো হয়নি। কাউকে জোর করে হরে কৃষ্ণ হরে রাম মন্ত্র উচ্চারণ করানো হয়নি।

ইসকনের নামে মহল বিশেষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তাদের বিষয়ে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ চেয়ে বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ইসকনের সাধু সন্ন্যাসীদের নিরাপত্তা দাবি করেছেন সংগঠনটির বাংলাদেশ শাখার সভাপতি কৃষ্ণকীর্তনদাস ব্রহ্মচারী। পাশাপাশি ইসকনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা দৈনিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ইসকনের মহারাজগণ।

ইসকনের সভাপতি বলেন, চট্টগ্রামে তাদের সংগঠন রথযাত্রা উপলক্ষে ফুড ফর লাইভ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণ করে। এ খাবার প্রসাদ ছিল না। আর যারা এ খাবার খেয়েছেন তারা সকলে সনাতন ধর্মের অনুসারী ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হরে কৃষ্ণ হরে রাম মন্ত্র উচ্চারণ করতে যাদের দেখানো হয়েছে তারা সকলে চট্টগ্রামের ভক্তি বেদান্ত স্কুলের শিক্ষার্থী। যাদের ১০০% শিক্ষার্থী হিন্দু। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে স্কুলের নামে প্রসাদ খাওয়ানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়, সেই স্কুলের প্রিন্সিপাল সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে বলেছেন সেখানে কোনো মুসলমান শিক্ষার্থীকে ইসকনের খাবার খাওয়ানো হয়নি। তারপরও মহল বিশেষ সেই স্কুলের নাম দিয়ে ইসকনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।

ইসকনের সাবেক সভাপতি সত্য রঞ্জন বাড়ই বলেন, ইসকন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি দুর্যোগে এদেশের মানুষের পাশে ছিল ও থাকবে। ১৯৭১ সালে ইসকন এক কোটি দেশান্তরি মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করেছে। বাংলাদেশের যতগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে তার প্রত্যেকটিতে ইসকন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে। সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মাঝেও খাবার বিতরণ করেছে ইসকন।

তিনি আরো বলেন, ইসকনের এই খাবার বিতরণ নতুন নয়। আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরেন, অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস ইসকনের ফুড ফর লাইভ কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। অথচ মহল বিশেষ আমাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাচ্ছে। এদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ইসকনের সভাপতি সত্য রঞ্জন বাড়ই এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরেন্দ্র নাথ বিশ্বাসও বক্তব্য রাখেন।

ঢাকা নিউজের সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, হাইকোর্ট এক রীট আবেদনের প্রেক্ষিতে ইসকনের প্রসাদ খাওয়ানো ও হরে কৃষ্ণ মন্ত্র জপ করানোকে অন্যায় বলেছেন। এ বিষয়ে ইসকনের প্রতিক্রিয়া কি? তাদের প্রেসনোটের এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি আসেনি কেন? জবাবে ইসকনের সভাপতি বলেন, হাইকোর্ট যা বলেছে তার সার্টিফায়েড কপি আমাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে আদালতের কপি পেলে আমরা অবশ্যই এর উত্তর দেব। তাছাড়া আদালতের বিষয়টি নির্দিষ্ট করে জানেন না বলে তারা জানান।

এ বিষয়ে রানা দাশগুপ্ত বলেন, হাইকোর্টের বিচারপতিগণ দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় ছাপানো তথ্যের ভিত্তিতে কিছু মন্তব্য করেছেন। তারা ইসকনের বিরুদ্ধে অভিযোগকে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নিয়ে যাবার নির্দেশ দিয়েছেন। তারা এ সম্পর্কে যৌক্তিক কোনো মত দিতে পারেন না বলে জানান।

সত্য রঞ্জন বাড়ই বলেন, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা বহু আগে থেকেই এ ধরনের কাজ করে আসছে। তারা বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার আগেই মসজিদ গুড়িয়ে গেছে নিউজ ছেপে এদেশে হাজারো মন্দির ভাঙতে উসকানি দেয়। পরে এ সংবাদের জন্য ক্ষমা চায়। আজ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশে মাইনরিটিদের নিয়ে যারা সংগঠন করেন তারা মৌলবাদী এ প্রশ্নের জবাবে রানা দাশগুপ্ত বলেন, মহাত্মাগান্ধীকে হত্যা করেন একজন রক্ষণশীল হিন্দু নথুরাম গডসে, কিন্তু এর তিনদিন পরে পাকিস্তানের জনক কয়েদে আযম বলেন, হিন্দু লিডার ইজ কিল্ড। যারা এ ধরনের মন্তব্য করে তারা সেই পাকিস্তানের ধারা।

ধর্মীয় সংগঠনগুলো মার্কেটিং করছে এমন প্রশ্নের জবাবে সত্য রঞ্জন বাড়ই বলেন, মার্কেটিংটা কি? ক্রয় বিক্রয় তথা বিপণন। যারা বলে তারাই বলুক আমরা কি ক্রয় বিক্রয় করছি।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইসকনের ভক্তি বিনয় মহারাজ, শ্রী চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী, শ্রী গৌরাঙ্গদাস ব্রহ্মচারী। ইসকন সম্পর্কে যে কোনো সংবাদ জানতে সংগঠনের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা সুখী সুশীল দাস ব্রহ্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তার ফোন নাম্বার ০১৭৩০০৫৯২০৯, ০১৫৩৪৯০০৯৬৮।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম