প্রিয়া সাহার বিচার হলে দুর্গন্ধ আরও বাড়বে

নিউজ ডেস্ক:   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে ‘ভয়ংকর’ নালিশ করে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে পড়েছেন বাংলাদেশি নাগরিক প্রিয়া সাহা। তবে তার বিচার হলে ‘দুর্গন্ধ আরও বাড়বে’ বলে মনে করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের শীর্ষ নেতা কাজল দেবনাথ। জার্মানির সংবাদ সংস্থা ডয়েচ ভেলের কাছে এমনটিই জানিয়েছেন তিনি।

তবে প্রিয় সাহা কীভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে গেছেন তা তার সংগঠন জানে না বলে দাবি করেছেন কাজল দেবনাথ। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের ওই অনুষ্ঠানের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে তিনজনের নাম চেয়েছিল৷ আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান-এই তিন সম্প্রদায় থেকে তিনজনের নাম দিই। তারা হলেন-নির্মল রোজরিও, নির্মল চ্যাটার্জি এবং সুজিত বড়ুয়। এখন প্রিয়া সাহা কী করে গেলেন সেটা আমরা জানি না। সে আমাদের সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক, তবে আমাদের নমিনেটেড না।’

হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানে ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বিলীন হয়ে গেছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা বাংলাদেশেই থাকতে চাই। সেখানে এখনো ১৮ মিলিয়ন সংখ্যালঘু মানুষ রয়েছে। আমার অনুরোধ, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু থাকার জন্য সাহায্য করুন।’

প্রিয়া সাহার বক্তব্যে বাংলাদেশে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এমনকি সরকারের মন্ত্রীরাও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।

কাজল দেবনাথ বলেন, ‘প্রিয়া বলেছেন ৩৭ মিলিয়ন ডিসঅ্যাপিয়ার্ড। এই শব্দটির এখন সারা বিশ্বে বাংলা অর্থ বিচার বহির্ভূত গুম। এটা হবে মিসিং পপুলেশন।’

তিনি বলেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে যদি আমরা হিসাব করি তাহলে এই ভূখণ্ড থেকে ৩৭ মিলিয়ন মানুষ হারিয়ে গেছে। এটা কিন্তু অংকের কাছাকাছি। কারণ ওই সময়ে হিন্দু ছিল মোট জনসংখ্যার ২৯ ভাগ। ২০১১ সালের সর্বশেষ আদমশুমারিতে তা মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ৭ ভাগ। তাহলে ২০ ভাগ হিন্দু জনগোষ্ঠী মিসিং। আবার সে বলেছে এখন ১৮ মিলিয়ন হিন্দু আছে। এটাও কাছাকাছি। আমরা বলি ১ কোটি ৫০ লাখ, সে বলেছে ১ কোটি ৮০ লাখ। ১৯৪৭ সাল থেকে না বলায় বিভ্রান্তি হয়েছে।’

প্রিয়া সাহার বাড়ি পোড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সে বলেছে আমর বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। এটা ফ্যাক্ট। আড়াই মাস আগে তার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। জমিজমা কেড়ে নিয়েছে। সে এটা নিয়ে হইচই করেছে। অনেকের কাছে গিয়েছে।’

কাজল দেবনাথ আরও বলেন, ‘ট্রাম্পের ওই অনুষ্ঠানে ১৩৪টি দেশের প্রতিনিধি ছিলেন। ৪০ জন ফরেন মিনিস্টার ছিলেন। আমাদের ফরেন মিনিস্টারও ছিলেন। তিনি আমাদের দলনেতা। তাদের সাথে না থেকে প্রিয়া সাহা কীভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ২৭ জনের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন সেখানে ঢুকলেন এটা বড় প্রশ্ন।’

তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প ২৭ জনের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন। সেই ফুটেজ কীভাবে বাইরে এলো? এটা ট্রাম্পের অফিস যদি করে থাকে তাহলে তার একটা চেইন আছে। সেই চেইনে বাংলাদেশ কেন নেই।’

‘তবে তিনি যে ট্রাম্পের কাছে গিয়ে নালিশ করেছেন এটা যৌক্তিক না। এটা আমরা করতে পারি না। তারা কেউই এখানো দেশে ফেরেননি। ফিরলে পুরো বিষয়টি জেনে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে’, বলেন তিনি।

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ প্রসঙ্গে কাজল দেবনাথ বলেন, ‘মামলাতো করতেই পারে। রাষ্ট্রদ্রোহী মনে করলে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করতে পারে। তবে বিচারে গেলে আমি তো মনে করি দুর্গন্ধ আরও বাড়বে৷’ তবে কেন দুর্ঘন্ধ বাড়বে তার কোনো ব্যাখ্যা এই মুহূর্তে দিতে চাননি কাজল দেবনাথ।

এদিকে প্রিয়া সাহার বক্তব্য নিয়ে সমালোচনাকে ‘বাড়াবাড়ি’ মনে করছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘তিনি (প্রিয়া সাহা) হয়তো ডিসপ্লেসড বলতে গিয়ে ডিসঅ্যাপিয়ার্ড বলেছেন। এ ধরনের ভুল আমাদেরও হতে পারে। তাই এটা নিয়ে এখন যা হচ্ছে, তা আমার কাছে অনেক বাড়াবাড়ি মনে হয়েছে।’ 

সূত্র: আমাদের সময় ।