যমুনা ও পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় যানজট

নিউজ ডেস্ক :   বন্যায় যমুনা ও পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল।পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে চার শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ও দুই শতাধিক বাস।

সংশ্লিষ্টরা জানান, যমুনা নদীর পানি আরিচা পয়েন্টে শনিবার সকালে বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে প্রভাব পড়েছে পদ্মায়। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পদ্মায় বেড়েছে প্রচণ্ড স্রোত। এতে করে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল।

এদিকে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে শুরু হয়েছে নদীতে ভাঙন। যমুনার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ভাঙন শুরু হয়েছে দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। ভাঙনের কবলে পড়েছে এসব এলাকার কমপক্ষে তিন শতাধিক পরিবার। এছাড়াও এরই মধ্যে যমুনার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে বিভিন্ন শাখা নদ নদীগুলোতে।

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানির স্তর পরিমাপক ফারুক হোসেন জানান, পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের এজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ছোট বড় মিলে ১৫ টি ফেরি রয়েছে। তবে নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে সবগুলো ফেরি নিয়মিতভাবে চলাচল করতে পারছে না। অপরদিকে নৌরুট পারাপারে সময় লাগছে আগের চেয়ে দ্বিগুণ। তিনি আরও জানান, নৌরুটের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে চার শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ও দুই শতাধিক বাস।তিন থেকে চার ঘণ্টার অপেক্ষায় বাসগুলো নৌরুট পারাপারের সুযোগ পেলেও দীর্ঘ ভোগান্তিতে পড়েছে ট্রাক চালকেরা। যে কারণে নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে ভোগান্তি শুরু হয়েছ। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে নৌরুটের বহরে বড় আরও কয়েকটি ফেরি যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে কিছুটা হলেও নৌরুট পারাপারের ভোগান্তি লাঘব হবে।

মানিকগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বাবুল মিয়া বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন কবলিত মানুষের মধ্যে ৮ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কয়েক টন চাল ও শুকনা খাবার বিতরণের ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।