বন্যায় চারণ ভূমি ডুবে যাওয়ায় গো- খামারিরা বিপাকে

নিউজ ডেস্ক :    বন্যায় সিরাজগঞ্জ ও প্রতিবেশি পাবনা জেলার শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর এই ৬টি উপজেলার বিস্তৃর্ণ গোচারণ ভূমি ও বাথান এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। ফলে এ দুই জেলার ৬ উপজেলার গো-খামার মালিকরা তাদের গবাদি পশু নিয়ে পড়েছে চরম বিপাকে । কোন মতে গবাদি পশুগুলি চারণ ভুমি থেকে এনে উচুস্থানে রাখা হয়েছে । যাদের বাড়িতে জায়গা নেই তারা সড়ক বা বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে । চারণ ভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশুর খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বিপাকে পরেছে বড় বড় গো- খামারিরা ।

খামারিরা জানান শাহজাদপুরের পশ্চিমে বয়ে যাওয়া গোহালা নদীর কোল ঘেষে পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতবাড়ি, বড়ভিটা, ছোট ভিটা, বুড়ির ভিটা, কুটির ভিটাতে এবং কাউয়ার্ক এবং হান্ড্রী এলাকায় গোচারণ ভুমি গুলিতে প্রতি বছরই বাথান নেয়া হয়। এখানে ৬/৭মাস পর্যন্ত গবাদিপশু বাথান এলাকায় অবস্থান করে। বন্যার পানি গোচারণ ভূমি থেকে নেমে যাওয়ার পর আবাদকৃত ঘাস খাওয়ার উপযোগী হলেই গবাদিপশু বাথানে নেয়া হয়।

শাহজাদপুর উপজেলার রেশমবাড়ি গ্রামের গো-খামারি আব্দুর জানান, বন্যার কারণে তারা গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন । ঘাসের জাম গুলি পানিতে ডুবে যাওয়ায় তারা কোন মতে খড় খাওয়ায়ে পশুগুলি বাঁচিয়ে রেখেছেন। এছাড়া বন্যার সুযোগে খৈল ভুষিসহ বিভিন্ন ধরনের খাবারের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে তারা বিপাকে পড়েছেন।

একই এলাকার সাইফুল ইসলাম জানান, চাহিদা অনুযায়ী গাভীগুলিকে খাবার দিতে না পারায় দিন দিন দুধের পরিমাণ কমে যাচ্ছে ফলে তারা লোকসানে মুখে পড়ছেন। এব্যাপারে তারা মানুষের পাশাপাশি গরুর খাবার বিতরণের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র ভূষির উপর খামার টিকিয়ে রাখা খামারিদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

দুগ্ধ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, এই এলাকায় প্রায় ১৫০ টির অধিক বাথান ছাড়াও ব্যক্তি পর্যায়ে অনেকেই গাভী পালন করে আসছে। যা থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়।

এব্যাপারে খামার মালিক ও ধলাই কেন্দ্রীয় দুগ্ধ সমিতির সভাপতি মো. আব্দুস সামাদ ফকির জানান, বন্যায় জমি ডুবে যাওয়ায় কাঁচা ঘাসের অভাবে দুধের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। পাশাপাশি দুধের দামও কমেছে । এছাড়া দানাদার খাবারের দামও বেড়েছে দ্বিগুন বা তার চেয়েও বেশী।

তিনি জানান, তিলের খৈল বন্যার আগে ছিল প্রতি বস্তা দুই হাজার টাকা তা এখন বেড়ে ২৭/ ২৮শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে । এছাড়া গমের ভুষিও কেজি প্রতি ৪/৫ টাকা বেড়েছে । এছাড়া সব ধরনের দানাদার খাবারের দাম বস্তা প্রতি ৫/৭শ টাকা বেড়েছে। এই অবস্থা বিরাজ করলে কৃষকরা যেমন ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে খামারিরাও তাদের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন।