খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে নির্বাচন দিন: ফখরুল

নিউজ ডেস্ক :    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন বাদ দিয়ে, খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে, সব রাজনৈতিক দলকে ডেকে দ্রুত নির্বাচন দিন। নয়তো জনরোষে আপনাদের পথ কঠিন হবে, ইতিহাস আপনাদের ক্ষমা করবে না।

দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বরিশাল নগরের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠে আজ বৃহস্পতিবার বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। ফখরুল বলেন, দেশ এখন ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ধর্ষণ, খুন, গুম এখন প্রতিদিনের ঘটনা। সরকার মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতা দখল করে রেখেছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজ দেশের আদালতেই প্রকাশ্যে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। এভাবে চলতে থাকলে দেশ অন্ধকারে তলিয়ে যাবে। খালেদা জিয়ার মুক্তির মধ্য দিয়ে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই বলে খালেদা জিয়ার জন্য ন্যায়বিচার আমরা আশা করতে পারি না। তাই মানববন্ধন আর সমাবেশ করে কোনো লাভ হবে না। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলন করতে হবে। আর এবার অন্য ধরনের আন্দোলনের সূচনা হলো এই বরিশাল থেকে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের কথা চিন্তা না করে দ্রব্যমূল্য, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম দিনের পর দিন বৃদ্ধি করে চলছে। তারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। জনগণের পকেট কেটে তারা নিজেদের পকেট ভারী করছে। সম্প্রতি সরকার যে বাজেট ঘোষণা করেছে তাতে জনগণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। দেশের মানুষের কথা না ভেবে তারা শুধু আমলাদের কথা ভেবেছে।

ফখরুল আরও বলেন, বিএনপির তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীদের নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মামলা রয়েছে নেতা-কর্মীদের নামে। অনেকে মামলার ভয়ে পালাতক। আসামি রয়েছেন ২৬ লাখ নেতা-কর্মী। আর গুম ও নিখোঁজ রয়েছে প্রায় ১ হাজার নেতা-কর্মী। এসব নেতা-কর্মীদের পরিবারের ছেলে, সন্তানেরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। তারা পিতার ফিরে আসার দিন গুনছে। আদৌ আসবে কি না, তা-ও তাদের জানা নেই।

কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল নগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বৈরাচারী এরশাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন হয়, সেখানে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করা খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় কারাভোগ করেন।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহম্মেদ, সেলিমা রহমান, জয়নুল আবেদীন, শাজাহান ওমর, বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, মাহবুবুল হক, আকন কুদ্দুসুর রহমান, এবায়দুল হক, মেজবা উদ্দীন ফরহাদ, আবুল হোসেন খান, হাফিজ ইব্রাহিম, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দীন সিকদার, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুল হক।

এই সমাবেশে বরিশাল বিভাগের সব জেলা ও উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।