পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা

নিউজ ডেস্ক :  গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন হয়েছে। তার আগের সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসেই দরপতন হয়। এমন টানা দরপতনে দুই সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক হারিয়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাওয়া হয়ে গেছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। দেখা দিয়েছে লেনদেন খরাও। বাজারের এমন দুরবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

ভয়াবহ এ দরপতনের কবলে পড়ে দিন যতই যাচ্ছে ততই পুঁজি হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাহুতাশ। তবে অতীতের বহু বারের মতো চলমান দরপতনেরও যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। অবশ্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে এ মন্দা অবস্থার জন্য কারসাজি চক্রকে দায়ী করা হচ্ছে। ফলে পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা এসব বিনিয়োগকারী শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দারস্থ হয়েছেন।

ভয়াবহ দরপতনের প্রতিবাদে দিনের পর দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করতে থাকা বিনিয়োগকারীরা বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের নামে দেয়া এ স্মারকলিপিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানসহ পুরো কমিশনারদের অপসারণ করে কমিশন পুনর্গঠন করাসহ ১৫ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৪ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। আর দুই সপ্তাহ আগে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। এ হিসাবে দুই সপ্তাহে ১৪ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা বাজার মূলধন হারিয়েছে ডিএসই।

বাজার মূলধনের বড় পতনের পাশাপাশি গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ৬৬টির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। অপরদিকে দাম কমেছে ২৭২টির। আর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টির। অর্থাৎ লেনদেনে অংশ নেয়া ৭৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হয়েছে। আগের সপ্তাহে দরপতন হয় ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ফরচুন সুজের শেয়ার। কোম্পানিটির ৯৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ১১ শতাংশ। ৩৫ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে গ্রামীণফোন।

লেনদেনে এরপর রয়েছে- সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, সী-পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বিকোন ফার্মাসিউটিক্যাল, মুন্নু সিরামিক এবং ঢাকা ইন্স্যুরেন্স।