তিস্তার পানিতে প্লাবিত জনপদ, শঙ্কায় রংপুরবাসী

নিউজ ডেস্ক:   উজানের ঢলের চাপে ভয়বাহ রূপ নিয়েছে তিস্তা। ব্যারেজ থেকে ছাড়া পানি বাঁধ ও পাকা রাস্তা ভেঙে-চুরে ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। প্রতিমুহূর্তে বাড়ছে বন্যা কবলিত মানুষের সংখ্যা ও শঙ্কা।

তিস্তার তীব্র স্রোতে উন্মাদনা শুরু করেছে সানিয়াজানও। পাহাড়ি দুই নদী মিলেমিশে প্রবল বিক্রমে বাঁধ ভেঙেছে। তারপর পাকা সড়ক দুমড়ে-মুচড়ে ঢুকে পড়েছে লালমনিরহাটের গোড্ডিমারী ইউনিয়নে। সেখান থেকে ছুটছে হাতিবান্ধা সদরের দিকে।

স্থানীয়রা বলেন, এই রাস্তার সামনে নদীর কোনো সাপোর্ট নাই, তিস্তা বাঁধ যদি হয়ে যেতো তাহলে এই সমস্যাটা হতো না।

রেকর্ডভাঙা পানির চাপ নিয়ে নানা উৎকণ্ঠা ব্যারেজ ও এর আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতিপ্রসাদ ঘোষ জানান, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। যেখানে যেখানে খবর পাচ্ছি বাঁধ যাতে কোনোমতেই না ভেঙে যায় সেজন্য সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলেছি।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবীর বিন আনোয়ার স্থানীয় প্রশাসন ও প্রকৌশলীদের নিয়ে এখন মাঠে। তিস্তা ব্যারেজ রক্ষার পাশাপাশি ত্রাণ তৎপরতায়ও থাকছেন তিনি। তিনি বলেন, প্রাথমিক ধাক্কাটা আমরা কাটিয়ে উঠেছি। দু-তিনদিনের মধ্যে ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে যাবে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, শনিবার (১৩ জুলাই) নদনদীর পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে নতুন করে আরও ২০ হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হয়েছে। বৃহত্তর রংপুরের পাঁচটি জেলায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এখন প্রায় দুই লাখ।