জয়ের সামর্থ্য রাখে ইংল্যান্ড: নাসের হুসেইন

নিউজ ডেস্ক :    ইয়ন মরগান এমন একটা দলের নেতৃত্ব দিচ্ছে, যারা আগ্রাসী আর কোনো কিছুতেই ভয় পায় না। তারা গত তিন ম্যাচ জিতেছে। লর্ডসে ফেভারিট হিসেবেই নামবে তারা। মরগানকে নিয়ে একটা গল্প প্রচলিত আছে, ‘ঠিক তার ক্যাপ্টেন্সির শুরুর দিকের ঘটনা। ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ড্রেসিংরুমে ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস খেলোয়াড়দের উদ্দেশে কিছু কথা বলেছিল। তো, মরগানের পালা যখন এলো, তখন সে স্ট্রাউসকে ড্রেসিংরুম থেকে চলে যেতে বলে। কারণ সে ভেবেছিল, তরুণদের কেউ স্ট্রাউসের সামনে মন খুলে কথা বলতে দ্বিধাবোধ করতে পারে। এ জন্য স্ট্রাউসকে চলে যেতে বলতে একটুও ভাবেনি মরগান। আর তখন থেকেই মরগান খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা দিতে কখনোই পিছপা হয়নি।

ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের এই উত্থানের পেছনে স্ট্রাউসেরও অনেক বড় কৃতিত্ব আছে। সে কোচ হিসেবে ট্রেভর বেলিসকে নিয়োগ দিয়েছে। মরগানকে তার দায়িত্বটা পালন করতে দিয়েছে বেলিস। স্ট্রাউস নিজে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের অধীনে ক্যাপ্টেন ছিল। তবে সে জানত, মরগানকে স্বাধীনতা দেবে এমন একজনকেই কোচ হিসেবে দরকার।

ইংল্যান্ডের নেটে অনুশীলনে যদি কেউ আউট হয়, তখন তাকে আবার চেষ্টা করতে বলা হয়, আরও ভালো করার জন্য বলা হয়। কিন্তু ম্যাচে কেউ আউট হয়ে গেলে ড্রেসিংরুমে কেউই হতাশায় মাথা নাড়বে না। বেলিসের সমর্থনে ইংল্যান্ড দলের এমন পরিবেশ মরগানই তৈরি করেছে। আর এটাই ইংল্যান্ডের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

তবে খেলোয়াড়দের শুধু স্বাধীনতা দিলেই হয় না, পরিকল্পনাটাও থাকা চাই। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর স্বল্পদৈর্ঘ্যের ক্রিকেটের প্রতি ইংল্যান্ডের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে কাজ করতে একটি কমিটি করা হয়। এতে স্ট্রাউস আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার সময়ই স্ট্রাউস ভেবেছিল, এমনটা আর হতে দেওয়া যাবে না। তাই ওয়ানডের দিকে জোর দেওয়া হয়। এতে যদি টেস্টের পারফরম্যান্স একটু খারাপ হয়, আপত্তি নেই।

গত বিশ্বকাপে বাঁহাতি স্টার্ক আর বোল্ট সাফল্য পেয়েছিল। এ জন্যই বাঁহাতি ডেভিড উইলিকে দলে নেওয়া হয়। এ ছাড়া মাঝের ওভারে উইকেট নেওয়ার জন্য একজন লেগস্পিনারের দরকার ছিল। এ জন্য আদিল রশিদকে আনা হয়। আর মরগান ইংল্যান্ডের আগ্রাসী খেলা বদলায়নি। তাই তো ২০১৫ সালের ওই সিরিজে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে এজেস বোলে পাঁচ ওভার বাকি থাকতেই অলআউট হওয়া নিয়ে কমেন্ট্রি বক্সে যখন তোলপাড়, তখন মরগান বলেছে- এতে সমস্যা নেই তার।

সে তার দলকে সব সময়ই সমর্থন দিয়ে গেছে। আর তারা মরগানের বিশ্বাস রেখেছে। আদিল রশিদের দিকে দেখলেই বিষয়টা বোঝা যায়। ঐতিহাসিকভাবেই ইংল্যান্ডের আগের কোনো অধিনায়কই লেগস্পিনারের ওপর ভরসা করেনি। তবে মরগান তার গুরুত্ব জানত। আর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সেমিফাইনালে এক ওভারে দুই উইকেট নিয়ে আদিল প্রমাণ করে দিয়েছে, মরগান কতটা সঠিক। আর মরগান প্রয়োজনে নির্দয়ও হতে পারে। এ জন্যই ডেভিড উইলির সুইংয়ের পরিবর্তে জোফরা আর্চারের গতিকে বেছে নিয়েছে সে। সে খেলোয়াড়দের প্রতি বিশ্বস্ত। তবে দলের সাফল্যের জন্য কাউকে বাদ দিতে দ্বিধা করবে না সে।

বিশ্বকাপে দিন যত গড়িয়েছে, মরগান পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। শ্রীলংকা আর অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারার পর সে বুঝে গিয়েছিল এটা বিশ্বকাপ, কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ নয়। তাই সব সময় রান তাড়া করার দিকে যায়নি সে। জেসন রয় ইনজুরি থেকে ফিরে আসায় তার সুবিধা হয়েছে। আর ইংল্যান্ডও ভারত আর নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে আগে ব্যাট করেছে। তার দলের আগ্রাসী ভঙ্গি অসাধারণ। তবে সে জানে, দলে ধরে খেলার মতো লোকেরও প্রয়োজন আছে। তার দলে জো রুট আর জস বাটলার এ কাজটা করে। এমন নয় যে এ দু’জন আগ্রাসী নয়। আর দলে আছে ক্রিস ওকস। গত কয়েক ম্যাচে সে দারুণ খেলেছে। এখন শুধু একটা ট্রফির দরকার। চার বছরে তারা যেভাবে খেলেছে, তাতে গর্ব করাই যায়। তবে এর আগে অস্ট্রেলিয়া আমাদের দেখিয়েছে, জেতাটাই বড় কথা। সেটা করতে হলে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে হবে। তাহলেই এ চক্রটার সফল সমাপ্তি হবে।

নিউজিল্যান্ডের এই দলটা ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করা দলটার মতো নয়। অত আগ্রাসী ক্রিকেট তারা খেলে না। তবে তারা পরিস্থিতি বুঝে কার্যকর ক্রিকেট খেলে, ঠিক তাদের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের মতই।