ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ছেন কাদের সিদ্দিকী!

নিউজ ডেস্ক:    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যকারিতা এবং তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতাকর্মীরা। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন এ জোট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য দলের নীতিনির্ধারকদের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা। গত বৃহস্পতিবার দলের বর্ধিত সভায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতাকর্মীরা নিজেদের এমন মনোভাব তুলে ধরেন। তাদের দাবির মুখে আজ রোববার রাতে দলের নীতিনির্ধারকরা বৈঠক করে ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। আগামীকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী তার দলের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। ইকবাল সিদ্দিকী জানান, ঐক্যফ্রন্টের কার্যক্রম নিয়ে তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। দলের বৈঠকে নেতাকর্মীরা এ জোটের কার্যকারিতা নিয়ে মতামত দিয়েছেন। এখন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে বিএনপি ও গণফোরাম থেকে নির্বাচিতরা সংসদে যোগ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার হুঁশিয়ারি দেন কাদের সিদ্দিকী। ঐক্যফ্রন্ট পরিচালনায় বিস্তর অসঙ্গতি রয়েছে বলেও সে সময় মন্তব্য করেন তিনি। ৮ জুনের মধ্যে এ সংক্রান্ত ব্যাখ্যা চেয়ে ৫ মে ড. কামালকে চিঠি লেখেন কাদের সিদ্দিকী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা না পেলে ঐক্যফ্রন্ট থেকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি। পরে ড. কামালের ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাদের সিদ্দিকীর ক্ষোভ প্রশমিত হলেও তিনি ঐক্যফ্রন্টের কার্যক্রম জোরদার করার শর্তারোপ করেন।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, ড. কামাল উপস্থিত না থাকায় ১০ জুন কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সভা মুলতবি করা হয়। এরপর এক মাস পেরিয়ে গেলেও মুলতবি সভা আর আয়োজন করা হয়নি। কাদের সিদ্দিকীর দাবি বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। এতে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতাকর্মীদের ক্ষোভ বেড়েছে। ঐক্যফ্রন্টের এমন কর্মকাণ্ডে তাদের নেতা কাদের সিদ্দিকীকে অবজ্ঞা করা হয়েছে বলেই মনে করেন তারা। এমন প্রেক্ষাপটেই গত বৃহস্পতিবার দলের বর্ধিত সভায় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার দাবি তুলে ধরেন নেতাকর্মীরা। ওই সভায় দলের জেলা-উপজেলা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বলেন, রাজনৈতিক কারণেই তারা ঐক্যফ্রন্টকে সক্রিয় করার দাবি জানিয়েছেন; কিন্তু তাদের দাবির প্রতি নূ্যনতম সম্মান দেখানো হয়নি। এতে নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠকে জোট ছাড়া-না ছাড়ার বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।