৫ ডাক্তার দিয়ে চলে কুলাউড়ার ৫০ শয্যার হাসপাতাল

এম শাহবান রশীদ চৌধুরী অনি মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা সদরের একমাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতালে মাসের পর মাস সরকারী বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তারসহ সেবাদানকারী কর্মচারী না থাকায় মাত্র ৫ জন ডাক্তার দিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে দুর-দুরান্ত থেকে আসা শিশু,মহিলাসহ সকল ধরনের রোগীরা সরকারের দেয়া সু-চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানষিকভাবে ভোগান্তি ও আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

কুলাউড়া উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার ৫ লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র চিকিৎসা সেবাধানকারী ৫০ শয্যা হাসপাতালের সেটআপ অনুযায়ী ১০ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারসহ মোট ২১ জন ডাক্তারের পদ রয়েছে। অথচ হাসপাতালে একজন জুনিঃ কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন) বিশেষজ্ঞ ডাক্তারসহ মাত্র ৫ জন ডাক্তার হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোরের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

অপরদিকে গুরুত্বপুর্ন পদের মধ্যে মেডিসিন,সার্জারী,গাইনী,এ্যানেসথেসিয়া,অর্থোঃ সার্জারী,কার্ডিওলজী,চক্ষু,শিশু,ইএনটিসহ ৯টি পদের জুনিঃ কনসালটেন্ট ও আরএমও,এমও,সহকারী সার্জন,ইএমও,আইএমও,প্যাথলজিষ্ট,এ্যানেসথেসিষ্টসহ ১৫ পদ শুন্য থাকায় প্রতিদিন কুলাউড়া হাসপাতালের ইনডোরের ভর্তি রোগী ও আউটডোরের শত শত রোগীকে মাত্র ৫ জন ডাক্তারের পক্ষে চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব না হওয়ায় রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

৫০ শয্যা হাসপাতালের পর্যাপ্ত পরিমান চিকিৎসা সেবা নেয়ার সুযোগ থাকা সত্বেও ডাক্তার ও কর্মচারি সঙ্কটের কারনে বিশেষ করে স্বাভাবিক অপারেশনের রোগী,গর্ভবতী মা-দের সিজার রোগী ও দুর্ঘটনায় আহত রোগিদের চিকিৎসা সেবা না দিয়ে দ্রুত মৌলভীবাজার জেলা সদরে অথবা সিলেট ওসমানী হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। যেখানে বর্তমান সরকার চিকিৎসা সেবা জনগনের দোড়গোড়ায় ছড়িয়ে দিচ্ছে,সেখানে কুলাউড়া উপজেলায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারনে সাধারন জনগন ৫০ শয্যা হাসপাতালের সু-চিকিৎসা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় হাসপাতালের ডাক্তার-কর্মচারী সঙ্কটের বিষয় একাধিকবার উত্থাপন করা হয়েছে। এমনকি বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার লেখালেখির পরও অদ্যাবদি বিরাজমান সমস্যার কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের বিরাজমান সমস্যার দ্রুত প্রতিকার করা না হলে রোগীদের ভোগান্তি আরো প্রকট আকার ধারন করার আশংকা রয়েছে।