মুস্তাফিজের ‘সেঞ্চুরি’ ও ক্যাচ মিসের মহড়া

নিউজ ডেস্ক:    বড্ড অসময়ে জ্বলে উঠলেন মুস্তাফিজুর রহমান। পেস বোলিংয়ে স্ফুলিঙ্গের অভাবটা বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ভোগাচ্ছিল বাংলাদেশকে। অথচ বোলিংয়ে বড় ভরসা ছিলেন এই বাঁহাতি পেসার। কিন্তু টুর্নামেন্টের শুরুতে প্রত্যাশার দাবি মেটাতে পারেনি তিনি। বিশ্বকাপের শেষ প্রান্তে এসে বল হাতে চেনা উইকেট শিকারি রূপে ধরা দিলেন মুস্তাফিজ। টানা দুই ম্যাচে ৫ উইকেট শিকারের অনন্য কৃতিত্ব গড়লেন।

যদিও ততক্ষণে সেমিফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে পড়ে দেশের বিমান ধরার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ দল। গতকাল লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭৫ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। গত ২ জুলাই ভারতের বিপক্ষেও ৫৯ রানে পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। দিনটা আরো অনেক অর্জন দিয়ে রাঙিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার।

এদিন বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ওয়ানডেতে সবচেয়ে দ্রুততম ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। বল হাতে ৫৩ ইনিংসে উইকেটের সেঞ্চুরি করেছেন কাটার মাস্টার। তবে ওয়ানডে ইতিহাসে চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। ৪৪ ম্যাচে ১০০ উইকেট শিকার করে বিশ্বরেকর্ডটার মালিক আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান। মুস্তাফিজের লেগেছে ৫৪ ম্যাচ।

বিশ্বকাপের ইতিহাসেও সর্বোচ্চ তিনবার ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব আছে মিচেল স্টার্কের। তারপর মুস্তাফিজসহ ছয় বোলার দুইবার করে ৫ উইকেট নিয়েছেন। যে তালিকায় ম্যাকগ্রা-আফ্রিদিরা রয়েছেন এই বাংলাদেশির সঙ্গে। চলমান বিশ্বকাপে উইকেট শিকারিদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন মুস্তাফিজ। ৮ ম্যাচে তার ঝুলিতে আছে ২০ উইকেট। ২৪ উইকেট নিয়ে শীর্ষে স্টার্ক।

মুস্তাফিজের বোলিং ছাড়া গতকাল লর্ডসে বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফিল্ডিংয়ে সময়টা ভালো কাটেনি বাংলাদেশের। মাশরাফির বিদায়ী বিশ্বকাপ ম্যাচে ক্যাচ মিস, বাজে ফিল্ডিংয়ে মূর্ত ছিলেন ফিল্ডাররা। কয়েকটি মিস ফিল্ডিং ছিল দৃষ্টিকটূ শিশুতোষ, অমার্জনীয় ভুল। ফিল্ডিংয়ের এই ঘাটতি বিশ্বকাপ জুড়ে ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। শেষটাতেও যার রেশ রয়ে গেল। ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশের ভুলের মিছিলকে পুঁজি করেই ইমাম উল হকের সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটে ৩১৫ রানের বড় স্কোর গড়ে পাকিস্তান।

টসে হেরে ফিল্ডিং করতে নেমে অষ্টম ওভারেই পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি বিচ্ছিন্ন করে দেন সাইফউদ্দিন। ফখর জামান (১৩) মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন। দ্বিতীয় উইকেটে বাবর আজম ও ইমাম ১৫৭ রানের জুটি গড়েন। যেখানে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের অবদান অনেক বেশি। দুইবার জীবন পেয়েছেন বাবর আজম। মুস্তাফিজের করা ২৬তম ওভারে ৫৭ রানে থাকা বাবরের সহজ ক্যাচ ফেলেন ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে থাকা মোসাদ্দেক। ২৭তম ওভারে মোসাদ্দেকের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ মিস করেন মুশফিক। তখন বাবর ৬৫ রানে। বলটা মুশফিকের হাঁটুতে আঘাত হানে। তার এক বল আগেই ৪৯ রানে থাকা ইমাম ক্যাচ দিয়েছিলেন, এ যাত্রা বল মুশফিকের পাশে দিয়ে চলে যায়।

বাবর-ইমামের জুটিটা ভাঙেন সাইফউদ্দিন। ৯৬ রান করে বাবর আউট হন। ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি করে ইমাম ফিরেন ৪২তম ওভারে। মুস্তাফিজের হিট উইকেট হন ১০০ রান করা ইমাম। তারপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান।

হাফিজের ২৭, ইমাদ ওয়াসিমের ৪৩ রানে তিনশো পার হয় পাকিস্তানের স্কোর। হারিস সোহেলকে নিজের ১০০তম শিকার বানান মুস্তাফিজ। শাদাব খানকে কট এন্ড বোল্ড করার পর ইনিংসের শেষ ওভারে ইমাদ ওয়াসিম ও আমিরকে আউট করে পাঁচ উইকেট তুলে নেন এই বাঁহাতি পেসার। সাইফউদ্দিন তিনটি, মিরাজ একটি উইকেট নেন।