বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হলো ‘ব্যবিলন নগরী’

নিউজ ডেস্ক:   পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ব্যবিলন নগরী এবার বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা করে নিলো। এই শহরটিকে মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দিতে ১৯৮৩ সাল থেকে চীন জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

শুক্রবার আজারবাইজানে জাতিসংঘের বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভায় ব্যবিলনকে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।

সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময়ে জাতিসংঘ বলেছে, হাম্মুরাবি ও নেরুচাদনেজারের মতো সফল শাসকদের অধীনে ব্যবিলন শহর ব্যবিলীয় সভ্যতার সৃষ্টিশীলতার গভীরতার প্রতিনিধিত্ব করে। প্রাচীন ব্যবিলন নগরী মারাত্মক দুর্বল অবস্থায় আছে বলে সতর্ক করে দিয়ে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি জানিয়েছে, অতিদ্রুত এর সংরক্ষণ দরকার।

১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সাবেক নেতা সাদ্দাম হোসেন প্রাচীন এই নগরীর বড় একটি অংশ ধ্বংস করে ফেলেন। মূল স্থাপনার অনুরুপ মডেল স্থাপনের জন্য ওই সময়ে এই কাজ করেছিলেন তিনি। পরে উপসাগরীয় যুদ্ধের পর প্রাচীন নগরীর আরেকটি অংশে নিজের জন্য এক সুরম্য প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন সাদ্দাম হোসেন।

২০০৫ সালে ব্রিটিশ মিউজিয়াম সতর্ক করে দিয়ে জানায়, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট প্রাচীন নগরীর মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়েছে। ওই সময়ে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের মধ্যপ্রাচ্য বিভাগের রক্ষক জন কার্টিস জানান, প্রাচীন নগরীর বড় একটি অংশ ট্যাঙ্ক চালিয়ে নষ্ট করেছে মার্কিন বাহিনী। এছাড়া প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের নানা অংশ জুড়ে ১২টি পরিখা খনন করা হয় বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, যে এলাকা ও স্থাপনা পুরো মানব জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয় সেসব এলাকা বা স্থাপনাকে মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেয় ইউনেস্কো। একবার তালিকাভুক্ত হলে আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।