দিনেদুপুরে চেক ডাকাতি: নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ

নিউজ ডেস্ক:  রাজধানী ঢাকার নয়া পল্টন এলাকার সাফওয়ান ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (৬৫) কে বর্তমানে চিহ্নিত সন্ত্রাসী চক্রের হামলা ও হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সন্ত্রাসী চক্রের হোতা ওয়াহিদ মুরাদ (৫৫) তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলেছেন। মাত্র কিছুদিন আগে গত ২৪ জুন ওয়াহিদ মুরাদ তার দুই সহযোগী আনাম (৪০) ও নাসির (৫০) সহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনকে সঙ্গে নিয়ে ৩০/এ, নয়াপল্টনের সাত্তারা সেন্টারের ১৪ তলায় সাফওয়ান ট্রাভেলসে হামলা চালায়।

তারা হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সহ অফিসের স্টাফদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আব্দুল্লাহকে রুমে আটকে মারধর করে এবং প্রাণহানির হুমকির মুখে তার কাছ থেকে পূবালী ব্যাংক নয়া পল্টন শাখার পাঁচটি চেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার অংক বসিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর এবং ফাইল কেবিনেট থেকে নগদ এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া ১০-১২টি ১০০ টাকার সাদা/খালি নন জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্প এ স্বাক্ষর করে নিয়ে যায়। এই চেক ডাকাতিসহ সম্পূর্ন বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা (নং-৩৭, তাং ২৪/৬/১৯, ধারা: ১৪৩/৪৪৮/৩৪২/৩২৩/৩৮৪/ ৩৭৯/৫০৬ দন্ডবিধি পেনালকোড) দায়ের করা হয়েছে।

সাফওয়ান ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ অন্যান্য দিনের মতোই ঘটনার দিন সাত্তারা সেন্টারে ১৪ তলায় অফিসে এসে নিয়মিত কাজে ব্যস্ত ছিলেন। দুপুর দেড়টার পর ওয়াহিদ মুরাদ তার দলবল নিয়ে অফিসে ঢুকে স্টাফদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে মারধর করতে থাকে।দ্রুত মোবাইল ফোনগুলো তাদের দখলে নিয়ে নেয়।

এক পর্যায়ে প্রাণহানীর হুমকির মুখে হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল্লার কাছ থেকে পূবালী ব্যাংক নয়াপল্টন শাখার চেক নং ২৯৯৫৩১৮ টাকার পরিমাণ-১,৫০,০০,০০০/- (এক কোটি পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা, চেক নং-২৯৯৫৩১৯ টাকার পরিমাণ ১,৫০,০০,০০০/- (এক কোটি পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা, চেক নং ০৫২৭৩৫২, টাকার পরিমাণ ১,৩০,০০,০০০/- (এক কোটি ত্রিশ লক্ষ) টাকা, চেক নং-০৫২৭৩৫৩ টাকার পরিমাণ ৫০,০০,০০০/- (পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা, চেক নং-০৫২৭৩৫৪ টাকার পরিমাণ ৫০,০০,০০০/- (পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা, চেক নং-০৫২৭৩৫৫ টাকার পরিমাণ ৫০,০০,০০০/- (পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা। এই পাঁচটি চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়। জিডি মামলা করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসীরা বিকেল ৪টার দিকে ওই অফিস ত্যাগ করে।

নয়াপল্টন থানার সাফওয়ান ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মামলা করার পর আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তার অভিযোগ, ওয়াহিদ মুরাদ একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক এবং একজন প্রতারক ও জাল জালিয়াতি চক্রের সদস্য। ব্যবসায়িক কাজে তার সঙ্গে পরিচয়। আব্দুল্লাহ তাকে দেখে বুঝতে পারেনি যে ওয়াহিদ মুরাদ একজন ঠগ, প্রতারক ও সন্ত্রাসী। না বুঝে ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে অরেজিষ্ট্রিকৃত এক চুক্তিনামা দলিল সম্পন্ন করে। ব্যবসায়িক লেনদেনে বিশ্বস্হতা স্থাপনের জন্য তিনি ওয়াহিদ মুরাদের কাছে ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের একটি চেক (চেক নং-অ১১৪৫১৮০) এক কোটি টাকা, পূবালী ব্যাংকের একটি চেকে (চেক নং-০৫২৭৩২২) ত্রিশ লক্ষ টাকা এবং ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর চেকে ( চেক নং-১৫৬৪৫৬৯) পনের লক্ষ টাকার মোট তিনটি সিকিউরিটি চেক জমা রাখেন।

ওয়াহিদ মুরাদের টালবাহানার কারণে চুক্তিনামার শর্থ অনুযায়ী চুক্তিনামাটি বাতিল হয়ে যায়। এই মর্মে ২৮/০১/২০১৯ইং তারিখে পাঠানো লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে ওয়াহিদ মুরাদকে অবহিত করা হলে তিনি অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এ অবস্থায় ওয়াহিদ মুরাদের কাছে গচ্ছিত তিনটি সিকিউরিটি চেক হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ফেরত চাইলে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ওয়াহিদ মুরাদ ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী নিয়ে আব্দুল্লাহর বাসভবনে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হামলা মামলা ও জীবন নাশের হুমকি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বাদি হয়ে কামরাঙ্গিচরে একটি জিডি (নং-৩৯, তাং-০১-০৩-২০১৯) করেন। একই কারণে পল্টন মডেল থানায়ও আরেকটি জিডি (নং-১৮০, তাং-০৩-০৩-২০১৯) দায়ের করেন। এর পাশাপাশি এক কোটি পয়তাল্লিশ লক্ষ টাকার তিনটি সিকিউরিটি চেক উদ্ধারের জন্য হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ঢাকা জেলা জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা (আরবিট্রেশন মিস কেইস) দায়ের করেন যার নং-১৩০/২০১৯।

জানা গেছে, ওয়াহিদ মুরাদের স্হায়ী ঠিকানা চাঁদপুর জেলার উত্তর মতলবের কুমারখোলা । বর্তমানে রাজধানী ঢাকার কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুর স্কুল রোডে বসবাস করেন। তাছাড়াও সেলিম ভাদুড়ী ১/এফ, পরীবাগ, ফ্ল্যাট নং-১১/ডি, শাহাবাগ ঢাকাতে অবস্থান করে । ওয়াহিদ মুরাদের ছোট ভাই রাজউকের কর্মকর্তা আরঙ্গজেব নান্নুর নেতৃত্বে উক্ত সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নান্নু বসুন্ধরা সপিং মলের লেভেল-৩, ব্লক-এ, দিশারী থ্রী পিসের (ইন্ডিয়ান আইটেম) এর ব্যবসা পরিচালনা করে।  

 হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর এক কর্মচারী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন গত ২৪ জুন সাত্তারা সেন্টারের সাফওয়ান ট্রাভেলসে তার বাহিনী নিয়ে ফিল্মি স্টাইলে চেক ডাকাতি যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়েছেন তার সবকিছুই সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ডআমাদের করা আছে।

আমাদের প্রতিবেদক ওয়াহিদ মুরাদের সাথে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্ঠা করেও তার সাথে দেখা কিংবা কথা বলতে পারেনি।