নিবন্ধনহীন অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিকরা কি সাংবাদিক নয়

সুমন দত্ত

বাংলাদেশের গণমাধ্যমে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের আগমন বহুদিন হলো। বিভিন্ন কর্পোরেট কোম্পানি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে অর্থ বিনিয়োগ করেছে। এগুলোতে কাজ করছে হাজারো সাংবাদিক। রয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করা প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিকরাও। কিছু কিছু অনলাইন পোর্টাল দৈনিক পত্রিকার চাইতেও ভালো বেতন দিয়ে সংবাদকর্মী নিয়োগ দেন। তারপরও মিডিয়াতে অনলাইনের সংবাদকর্মীরা পান না যোগ্য মর্যাদা। তার প্রমাণ হলো সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন।

সেদিন গণভবনে বাজেট সম্পর্কে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন সময় এক অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন। প্রধানমন্ত্রী তার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তাকে উল্টো প্রশ্ন করে জানতে চান তার অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের রেজিস্ট্রেশন আছে কিনা। জবাবে ওই সাংবাদিক ‘না’ উত্তর দিলে তিনি তাকে জবাব দেবেন না বলে জানান। অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করার নসিহত দেন তিনি। এতে মনে হলো প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে অনলাইনে কাজ করা সাংবাদিক কোনো সাংবাদিকই না।

এ ঘটনা কয়েকটি মিডিয়ায় প্রকাশ হলে অনলাইনের বহু সাংবাদিকের মতো আমারও খারাপ লাগে। প্রখ্যাত সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে বলে ছিলেন সংবাদ কর্মীদের বুঝতে হবে তাদেরে পেশার সঙ্গে সম্মান ও মর্যাদা দুটো আছে। সম্মান বহু পেশাতে থাকলেও মর্যাদা সব পেশাতে নেই। আর এই মর্যাদা সাংবাদিকদের নিজেদের আদায় করে নিতে হয়। সংবাদ মহলে সাংবাদিকদের মূল্যায়ন আগে দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক, তারপর ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক তারপর অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক। এ যেন হিন্দু ধর্মের সেই বর্ণ প্রথা ব্রাহ্মণ> ক্ষত্রিয়> বৈশ্য> শূদ্র।

প্রধানমন্ত্রী অনলাইনে কাজ করা সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তাদের মর্যাদাহীন করেছেন। এমনটা আমি মনে করি। তার কাছে আমার প্রশ্ন ১০ বছর ক্ষমতায় থেকে তিনি কেন অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন দেননি? তার জবাব তাকে দিতে হবে। পাশাপাশি এটাও বলতে হবে কেন তিনি সংবাদ সম্মেলনে নিবন্ধনহীন অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানান?

আমি ঢাকানিউজ২৪ডটকমে কাজ করছি। আমাদের অনলাইন পোর্টালের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন আছে। কই আমাদের তো সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে ইমেল দেয়া হয় না? দৈনিক পত্রিকায় কিছুদিনের জন্য কাজ করে ছিলাম। সেখানে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি কীভাবে দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকরা অনলাইনের খবর প্রকাশের ওপর হা করে বসে থাকে।

আজ ধুঁকতে থাকা দৈনিক পত্রিকা গুলোকে স্যালাইন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখছে ওই অনলাইনে প্রকাশিত হওয়া সংবাদ। বাস্তবে দেখা যায় তথাকথিত প্রথম সারির দৈনিকগুলো দেশি বিদেশি বিভিন্ন অনলাইনের খবর কাটছাঁট করে প্রকাশ করে নিজেদের নামে চালায়। যা সম্পূর্ণ রূপে আইন ও নৈতিকতা বিরোধী।

প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, অনলাইনে বকলম মার্কা সাংবাদিকরা কাজ করে না। দেশের প্রতিষ্ঠিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পাস করা ছেলে মেয়েরা ওইসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। এদের মধ্যে কারো কারো রয়েছে একাধিক স্নাতক ডিগ্রি। তাই তাদের যোগ্য মর্যাদা দিন। যেসব অনলাইন গুজব খবর ছড়ায়, পর্নো ভিত্তিক খবর ছাপায় তাদেরকে আইনের আওতায় এনে সাজা দিন। তাতে মূল ধারার অনলাইন সাংবাদিকরা কেউ আপত্তি করবে না। আর অনলাইন পোর্টালগুলোর অতীত ট্রাক রেকর্ড দেখে অতি সত্বর নিবন্ধন দিয়ে বাকীদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিন।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম