পয়েন্ট টেবিল যেন জটিল এক ধাঁধার নাম

নিউজ ডেস্ক :  দিস ওয়ার্ল্ড কাপ ইজ ঠু প্রেডিক্টেবল’। গত রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের জয়ে এমনই প্রতিক্রিয়া ছিল নাজিয়া নামে এক ক্রিকেটপ্রেমীর। বিরক্ত হওয়ার যথেষ্ট কারণও আছে। বিশ্বকাপের এবারের যে গ্রুপ পদ্ধতি সেটা নিয়ে অনেকেরই আপত্তি ছিল। বড় দলগুলোকে সুবিধা দিতেই নাকি আইসিসির এটা ফন্দি। হতেও পারে, বিশেষ করে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে ভারত ও পাকিস্তান বাদ পড়ায় তখন থেকেই বেশ সাবধানী ক্রিকেটের সবোর্চ্চ সংস্থাটি।

বিশ্বকাপের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সবাই যে যার মতো সেরা চার সেমিফাইনালিস্টের নাম আন্দাজ করেছেন। অনেকের আন্দাজ সঠিকের পথে তো বাকিরা এখনও দোটানায়। বাংলাদেশ সেরা চারে উঠবে কিনা এনিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। পন্ডিতদের অনেকেই বাংলাদেশকে গোনায় ধরেননি। সেই বাংলাদেশই প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ‘বিজ্ঞ’দের ভুল প্রমাণ করে। বিশ্বকাপের পয়েন্ট টেবিল যেন গোলক ধাঁধায় পরিণত হয়েছে। কখনো অস্ট্রেলিয়া, তো কখনো নিউজিল্যান্ড শীর্ষে। দুই-তিন-চারে তো প্রতিদিনই পরিবর্তন আসছে। শেষ পর্যন্ত কোন চারটি দল সেরা চারের তালিকায় থাকবে তা আন্দাজ করতে গলদঘর্ম হচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

এখন পর্যন্ত গ্রুপ পর্বের যা চিত্র তাতে করে নাটকীয় কিছু না ঘটলে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠছে সেটা চোখ বন্ধ করেই বলা যায়। বাকি থাকে আর দুটি দল। ইতিমধ্যে আফগানিস্তান ও শ্রীলংকার সম্ভাবনা ভালোভাবেই নাকচ করছেন ক্রিকেট পণ্ডিতরা। টানা হারে বির্যস্ত দক্ষিণ আফ্রিকাকেও গোণার বাইরে রাখা হচ্ছে। বাজে ফর্মের কারণে পাকিস্তানকেও শেষ চারের লড়াইয়ে যোগ্য দল ভাবা হচ্ছে না।

তাহলে বাকি থাকছে ভারত,নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশ। এই তিন দলের মধ্যে দুদল যাবে শেষ চারে। সামর্থ্যের বিচারে ভারতকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। লড়াইটা হবে তাহলে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের। অবাক করার মতো ব্ষিয় হচ্ছে, এখন পর্যন্ত পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। কিউইদের সংগ্রহ ৫ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট। পরের নাম দুটি ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার। তাদের সংগ্রহ ৮ পয়েন্ট করে। ৭ পয়েন্ট নিয়ে এই মূহূর্তে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত। বাংলাদেশ রয়েছে পাঁচে।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে নিউজিল্যান্ডও রণক্ষেত্রে দামামা বাজিয়ে দিয়েছে। কেন উইলিয়ামসনের দল জানান দিয়ে দিল, কারো চেয়ে কম নয় তারা। ৫ ম্যাচ খেলে কিউইদের জয় চারটিতেই। পরের চার ম্যাচে কিউইরা খেলবে পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। চারটি ম্যাচের অন্তত দুটি জেতার কথা কিউইদের। আর এমনটা হলে তো, কিউইদের শেষ চার প্রায় নিশ্চিত! নিউজিল্যান্ড জেতায় বেশ বড় ক্ষতিই হয়েছে বাংলাদেশের। কারণ এখন প্রতিটি ম্যাচই যে জিততে হবে টাইগারদের।

ট্রেন্টব্রিজে বাংলাদেশের লড়াই আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়াকে এই লড়াইয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে তবে কেউই পিছিয়ে রাখছে না বাংলাদেশকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টাইগাররা যেভাবে উড়ন্ত জয় পেয়েছে তাতে করে অস্ট্রেলিয়াকে খুব বেশি এগিয়ে রাখার যৌক্তিকতাও নেই। আজ যদি বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারে তাহলে টাইগাররা সেমিফাইনালে যে বিষয়ে বাজি রাখা যেতে পারে।

আচ্ছা,আজ যদি বাংলাদেশ হেরে যায় তাহলে কি হবে? টাইগাররা আজ হেরে গেলেও শেষ চারে ওঠার সম্ভাবনা থাকবে সেক্ষেত্রে অবশ্য বাকি দলগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে মাশরাফিদের। নিউজিল্যান্ডের পরবর্তী চারটি ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। বাংলাদেশকে শেষ তিনটি ম্যাচে জেতার পাশাপাশি এই চারটি ম্যাচে কমপক্ষে দুটি হারতে হবে কিউইদের। তাহলে পয়েন্ট টেবিলে একই কাতারে থাকবে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরবর্তী চার ম্যাচের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড,ভারত,শ্রীলংকা ও আফগানিস্তান। ভারত ও নিউজিল্যান্ড বাদে বাকি দুটি ম্যাচে ক্যারিবীয়দের জয়ের বিষয়ে তেমন সন্দেহ কারো নেই। জেসন হোল্ডারের দল যদি সেই দুটি ম্যাচেও জিতে যায় তাহলে নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের কাতারে চলে আসবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

তিন দল যদি একই মোহনায় এসে মিলে তখন জটিল এক ধন্দে পড়ে যাবে বিশ্বকাপ। তখন ক্রিকেটর অন্যান্য হিসাব তখন গণনায় আসবে।