ধূমপায়ীর সংখ্যা কমাতে দাম বাড়ছে সব সিগারেটের

নিউজ ডেস্ক :   ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গত চার বছরে বেশ কিছু সিগারেটের দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। এ বছর একসঙ্গে দেশে উৎপাদিত সব ধরনের সিগারেটের দামই বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ২০ শলাকা সিগারেটের প্রতি প্যাকেটে দাম বেড়েছে ৩৬ টাকা পর্যন্ত। সাম্প্রতিক সময়ে এই মূল্য সর্বোচ্চ।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে উচ্চমূল্য স্তরের সিগারেটের দাম প্রতি ১০ শলাকা প্যাকেট ৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৩ টাকা ও ১০৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২৩ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া নিম্নস্তরের সিগারেট ৩৫ টাকা থেকে ৩৭ টাকা এবং মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম ৪৮ টাকা থেকে ৬৩ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বিড়ি ও ধোঁয়াবিহীন তামাকে। এত ব্যাপক হারে সব ধরনের সিগারেটে দাম বাড়ানোর নজির নিকট অতীতে দেখা যায়নি। এই দাম বাড়ানোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অধূমপায়ীরা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত এক দশক ধরে প্রতি বাজেটেই ধারাবাহিকভাবে সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত এক দশকে সব স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ করে। ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে নিম্নস্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের মূল্য ছিল ৭ টাকা ৫০ পয়সা, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ৩৭ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে করে ১০ বছরের ব্যবধানে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় পাঁচগুণ। সিগারেটের দাম বাড়ানোর ফলে একদিকে যেমন রাজস্ব আয় বাড়ছে, অন্যদিকে কমছে ধূমপায়ীর সংখ্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অর্থায়নে সম্প্রতি প্রকাশিত গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত আট বছরে দেশে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমেছে ২১.৭ শতাংশ। এ ছাড়া গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে যেখানে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল ১০ হাজার কোটি টাকা, সেখানে এই অর্থবছরে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সরকারের এই সিগারেটের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে তামাকমুক্ত দেশ গড়তে যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকেই।

অন্যদিকে বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বছর বছর সিগারেটের দাম বাড়ার ফলে ধূমপায়ীরা, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ ঝুঁকছেন নিম্নস্তরের সিগারেটে। আর এই বাজারের প্রায় অর্ধেক স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অবৈধ সিগারেটের দখলে আছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বিগত বছরে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া সিগারেটের সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম বাড়িয়ে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমানোর যে লক্ষ্য সরকার নির্ধারণ করেছে, তার প্রধান বাধা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া অবৈধ সিগারেট। আর বাজারে শৃঙ্খলতা ফিরিয়ে এনে ও সব ধরনের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করে সরকার নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়ন করা গেলে তামাকমুক্ত দেশ গড়া অসম্ভব কিছু না বলে ধারণা করছেন তারা।