ইভিএম লুটে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা: ইসি সচিব

নিউজ ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেছেন, একটি কেন্দ্রে ইভিএম ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, সেটা পারেনি। তাদেরকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এরপর অল্প কিছুক্ষণের জন্য ভোটগ্রহণ স্থগিত ছিল। ইভিএম রি-ইনস্টল করে আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। পঞ্চমধাপের ভোটগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন।

ইসি সচিব বলেন, আরও একটি উপজেলায় কিছু লোকজন জোর করে ভোট দেয়ার চেষ্টা করেছিল। তারা পাঁচটা ব্যালট পেপারে জোর করে ভোট দিয়েছিল। ওই পাঁচটা ভোট বাতিল করে দেয়া হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

আলমগীর হোসেন বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ইভিএম ছিনতাই এবং একটি কেন্দ্রে ৫টি ব্যালটে সিল মারার মতো ছোট ঘটনা ছাড়া ভোটগ্রহণ খুব ভালো হয়েছে। এজন্য দায়ীদের গ্রেফতার করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাই খুব ভালো, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে প্রত্যেকটি কেন্দ্রেই। কিছু দুষ্টু লোক দুই-একটা কেন্দ্রে সামান্য গণ্ড-গোলের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সফল হয়নি।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ২০টি উপজেলা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করেছে ইসি। এসব উপজেলার মধ্যে চারটি উপজেলা অর্থাৎ গাজীপুর সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, নোয়াখালী সদর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ভোট নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২৪ লাখ ভোটার এ নির্বাচনে ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পয়েছেন।

ইভিএমে ভোটের ফলাফল আসতে দেরি হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তি। অভ্যস্ত হতে একটু সময় দিন। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। তিনি বলেন, রোম একদিনের তৈরি হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়া প্রযুক্তিতে একদিনে আজকের অবস্থানে আসেনি। আমাদেরও একটু সময় দিন। নির্বাচনে মোট চেয়ারম্যান পদে ৫৯ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ১০০ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শেষ ধাপের নির্বাচনে দুইজন চেয়ারম্যান পদে এবং দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন গত ১০ মার্চ শুরু হয়।এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ, তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ, চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ ভোটগ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। এরমধ্যে চতুর্থ ধাপে ৩১মার্চ ছয়টি উপজেলায় এবং ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপেও চারটি উপজেলায় ইভিএমে ভোটগ্রহণ করে ইসি।