ভোক্তা-অধিকারকে হটলাইন চালুর নির্দেশ হাইকোর্টের

নিউজ ডেস্ক :   ভোক্তাদের অভিযোগ শুনতে দুই মাসের মধ্যে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে হটলাইন চালুর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ রোববার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালত বলেছেন, ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে ০১৭৭৭৭৫৩৬৬৮ নম্বরে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানাতে পারবেন ভোক্তারা, পাশাপাশি ৯৯৯ এবং ৩৩৩ তে কল করে অভিযোগ জানানো যাবে। এ ছাড়া ছুটির দিনসহ ২৪ ঘণ্টা এই নম্বরগুলো হটলাইন হিসেবে চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে করে ভোক্তা সব সময় তাদের অভিযোগ জানাতে পারেন।

এ ছাড়া একইসঙ্গে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) সারা বছরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া বাজারের সকল পণ্যের সব সময় মান পরীক্ষার (র‌্যান্ডম টেস্টিং) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত বলেন, বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় যেসব পণ্য মানহীন হয়েছিল, ওই পণ্যগুলো পরে আবারও মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলোসহ বাজারের সকল পণ্য সারা বছর র‌্যান্ডম টেস্ট করবে।

এদিকে সম্প্রতি ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে বিএসটিআই। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ৩১৩টির মধ্যে ৫২ পণ্য মানহীন বলে প্রতিবেদন দেয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। বাকি ৯৩ পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রতিবেদন রোববার জমা দেওয়া হয়েছে। তবে ৯৩ পণ্যের মধ্যে ২২টিকে মানহীন বলে প্রতিবেদন দিয়েছে বিএসটিআই।

তবে এই ২২টি পণ্যকে অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট

বিএসটিআইয়ের দাখিলকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় যে ৫২ পণ্য মানহীন ছিল। তার মধ্যে ৪২টি পণ্য পুনরায় মান পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছিল। এর মধ্যে ২৬টি পুনঃপরীক্ষায় মানোত্তীর্ণ হয়েছে। তবে ১৬টি পণ্য নিম্নমানের হওয়ায় সেগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বাকি ১০টি পণ্য এখনো নমুনা দেয়নি। একইসঙ্গে মান পরীক্ষায় বাকি ৯৩টি পণ্যের মধ্যে ২২টিকে মানহীন বলে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বিএসটিআই।

এর আগে রোববার সকাল ১০টায় বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার আদেশ বাস্তবায়ন না করায় তলবের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টে উপস্থিত হন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।

গত ২৩ মে হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ তাকে তলব করে আদেশ দেন। ওই দিন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই আদালতে এ বিষয়ে আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মুখলেসুর রহমান জানান, গত ২৩ মে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ রোববার হাইকোর্টে এসেছেন তিনি।

এর আগে বিএসটিআই এর পরীক্ষায় প্রমাণিত ৫২টি ভেজাল বা নিম্নমানের খাদ্যপণ্যের বিষয় নিয়ে গত ৯ মে হাইকোর্টে রিট করে কনসাস কনজ্যুমার সোসাইটি। সেই রিটের শুনানি নিয়ে ১২ মে হাইকোর্ট বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় প্রমাণিত ৫২টি নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ ছাড়া হাইকোর্ট তার আদেশে এসব খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং মান উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত এসব খাদ্যপণ্যের উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের এই আদেশ বাস্তবায়ন করে ১০ দিনের মধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিতে বলেন।

তারই ধারাবাহিকতায় আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। তবে প্রতিবেদনে বাজার থেকে একটি পণ্যও সরানোর তথ্য না দিতে পারার প্রেক্ষাপটে হাইকোর্ট নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে তলব আদেশ দেন এবং ১৬ জুন এ বিষয়ে শুনানির দিন ঠিক করেন।

ওইদিন তলব করার সঙ্গে সঙ্গে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুলও জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

সম্প্রতি ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে বিএসটিআই। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ৩১৩টির মধ্যে ৫২ পণ্য মানহীন বলে প্রতিবেদন দেয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। বাকি ৯৩ পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রতিবেদন ১৬ জুনের মধ্যে দিতে বিএসটিআইকে নির্দেশ দেওয়া হয়।