খেতমজুরদের উপহাস করা হয়েছে: মেনন

নিউজ ডেস্ক :  বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, কামলার অভাবকে পুঁজি করে এবারের বোরো মৌসুমে সরকারি কর্তাব্যক্তিরা ও বিভিন্ন সংগঠন জিন্স-টি শার্ট এবং নতুন লুঙ্গি-গামছা পরে ফটোশেসনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিলেন। এতে খেতমজুরদের রীতিমত উপহাস করা হয়েছে। প্রয়োজন এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সংগঠিত হবার। সেই সংগঠিত শক্তিই পারবে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অধিকার বাস্তবায়িত করতে।

শনিবার রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় কৃষক সমিতি ও বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন আয়োজিত ‘কৃষক-খেতমজুর কনভেনশন’-এ রাশেদ খান মেনন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, যে কৃষক তেভাগা আন্দোলনে আওয়াজ তুলেছিলেন ‘জান দেবো, তবু ধান দেবো না’ সেই কৃষক আজ দাম না পেয়ে ক্ষেতের ধান পুড়িয়ে দিচ্ছেন। এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।

মেনন বলেন, আজ ধান উৎপাদনে বেশি খরচের পেছনে খেতমজুরদের মজুরিকে অজুহাত হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষক ও খেতমজুরকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ খেতমজুররা দৈনিক ৭০০-৯০০ টাকা পায় মাত্র তিন মাসের কাজের সময়ে। যা দিয়ে তাদের পুরো বছরের সংসার চালানো ও খোড়াক যোগাতে হয়।

তিনি বলেন, সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিচ্ছে, তাকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু কৃষিপণ্য ক্রয়েও ভর্তুকি দিতে হবে। পোষাক কারখানা মালিক, ঋণখেলাপী ও কালো টাকার মালিকরা প্রণোদনা পেলে কৃষক তার শস্য বিক্রিতে কেন প্রণোদনা পাবেন না?

কৃষি ও কৃষক রক্ষা, খেতমজুরদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারী কৃষিশ্রমিককে কাজের স্বীকৃতি ও মজুরি বৈষম্য দূর করা তথা কৃষক খেতমজুরদের ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত হওয়া এবং আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত এ কনভেনশনে কৃষকদের ১২ দফা ও খেতমজুরদের ১২ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এসব দাবি আদায়ে আগামী বোরো ফসল মৌসুম পর্যন্ত আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়।

খেতমজুর ইউনিয়নের সভাপতি বিমল বিশ্বাসের সভাপতিত্বে কনভেনশনে আরও বক্তব্য রাখেন ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, নুরুল হাসান, মাহমুদুল হাসান মানিক, আমিনুল ইসলাম গোলাপ, মনোজ সাহা, আবদুল মজিদ, রবীন সরেন, এম এ সবুর, বদরুল আলম, শামসুল হুদা প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন খেতমজুর ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি।