ক্ষতিটা হলো বাংলাদেশেরই

আকরাম খান:   ছেলেরা খুব ভালো শেপে ছিল। শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচটা হলে আর জিততে পারলে চার পয়েন্ট হয়ে যেত। পরিত্যক্ত হওয়ায় একটা পয়েন্ট শ্রীলংকার ঘরেও গেল। চার ম্যাচ থেকে চার পয়েন্ট ওদের। চার ম্যাচ থেকে বাংলাদেশের পয়েন্ট তিন। যদিও প্রকৃতির ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। বৃষ্টি হলে কিছু করার থাকে না। যা হওয়ার হয়ে গেছে। এটা মেনে নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে বাংলাদেশকে। এখনও পাঁচটি ম্যাচ আছে সামনে। সেমিফাইনালে যাওয়ার রেসে থাকতে হলে এই পাঁচ ম্যাচ থেকে কমপক্ষে তিনটি জিততে হবে। আসলে শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচটা না হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য ক্ষতি হয়ে গেল। আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান আমাদের টার্গেটে আছে। এ তিনটি ম্যাচ জিততেই হবে। তবে এই তিনটি ম্যাচই যে জিততে পারবে, সে রকম কোনো নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। কেন না, এর যে কোনো একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্তও হতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ দাঁড়াবে, অস্ট্রেলিয়া আর ভারতের ম্যাচ থেকেও পয়েন্ট নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এই দুটো দলই বিশ্বকাপে খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে। এদের সঙ্গে জিততে হলে খুব বেশি ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে বাংলাদেশকে। খেলোয়াড়রা জানে, টার্গেটে যেতে হলে কখন কী করতে হবে। তবে শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচটি খেলা হলে ভালো হতো।

বৃষ্টি শুধু আমাদের জন্যই সমস্যা না, অন্য দলগুলোও খেলতে পারছে না। বড় দলগুলোও পয়েন্ট হারাতে পারে। তখন কিন্তু সমীকরণ আরও বদলে যাবে। সেদিক থেকে বলব, বাংলাদেশ দলের সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা এখনই শেষ হয়ে যায়নি। আরও অন্তত তিনটি ম্যাচ যাওয়ার পর বুঝতে পারব, আমরা কোন জায়গায় দাঁড়াতে পারলাম। ছেলেরা জয়ের ধারায় ফিরতে উন্মুখ হয়ে আছে। আশা করি ১৭ জুন টনটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটা হবে এবং বাংলাদেশ জিতবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আমাদের সাম্প্রতিক ফল ভালো। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে তাদের মাঠেও জিতেছি আমরা। ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত নয়টি ম্যাচ খেলে সাতটিতেই জিততে পেরেছি। ত্রিদেশীয় সিরিজে ওদের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচেই ছেলেরা খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছে। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওই দলটায় বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ছিল না। গেইল, পোলার্ডরা যোগ দেওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ দলটার শক্তি কিছুটা বেড়েছে। এর পরও আমাদের খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে কিছুটা হলেও এগিয়ে থেকে খেলতে পারবে। যেটা ভালো খেলতে টনিকের মতো কাজে দিতে পারে।

বেশ কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশ দলের সঙ্গে আছি আমি। খুব কাছ থেকে খেলোয়াড়দের দেখছি, পর্যবেক্ষণ করছি। তারা সবাই খুব ভালো মুডে আছে। খেলার মধ্যেই আছে। বিশ্বকাপ আর ক্রিকেট ছাড়া কোনো কিছু নিয়েই ভাবছে না তারা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বড় হারের পর দলের বাইরে কিছু কথাবার্তা হলেও ছেলেদের ওসব স্পর্শ করতে পারছে না। যতটুকু জানি, সবাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এড়িয়ে চলছে। আগেও বলেছি, এই দলটাকে নিয়ে আমরা আশাবাদী, তারা ভালো কিছু করার জন্যই বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে। বোর্ডের দিক থেকে যতটা সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব আমরা দিয়ে যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, খেলা ছাড়া, দেশের ও দলের সাফল্য ছাড়া কোনো কিছুই এ মুহূর্তে স্পর্শ করছে না ক্রিকেটারদের। আমি নিশ্চিত, যে কোনো মূল্যে তারা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে চেষ্টা করবে।

লেখক :জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক