পরিবহণে ভাড়া দ্বিগুণ, আবার কোথাও তিনগুণ, তবু মিলছে না টিকিট

নিউজ ডেস্ক:  কর্মমুখী মানুষের দুর্ভোগ চরমে। প্রিয় স্বজনদের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপন শেষে শুরু হয়েছে আরেক যুদ্ধ। টিকিটের জন্য ট্রেনে-বাসে চলছে লড়াই। বাসের ২২০ টাকার টিকেট এখন ৩০০ টাকায়। ট্রেনের টিকিট কাউন্টারে নেই। আছে কালোবাজারী সিন্ডিকেটের হাতে।

সোমবার সকালে ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর হাওড় এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্যান্টিন, নামাজঘর এমনকি টয়লেটের সামনেও চেয়ার বসিয়ে উৎকোচের বিনিময়ে যাত্রী তুলছে অ্যাটেনডেন্সরা।

ট্রেনের ‘গ’ নং কোচে মোহনগঞ্জের রফিকুল ইসলাম, নুর আহাম্মেদ, আবুল কাসেম ও কাজল মিয়া ৪ জনকে ওই বগির অ্যাডেনডেন্স বিনাটিকেটে ২০০ টাকার চুক্তিতে নিয়ে আসে। গৌরীপুর জংশনে নামার পর এ চার যাত্রীকে বিনা টিকিটে ভ্রমণের জন্য আরো ২২০ টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে। অপরদিকে ঢাকাগামী বলাকা কমিউটার ও মহুয়া কমিউটার ট্রেনেও ফিরতি পথের যাত্রীদের বাড়তি চাপ দেয়া গেছে।

এ বিষয়ে গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. আবদুর রশিদ জানান, এ স্টেশনে কোনো টিকিট কালোবাজারী হয় না। অনলাইনে টিকিট থাকায় অনেকেই আগে নিয়ে যায়। সেটা প্রতিরোধ আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

এ দিকে গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহগামী বাসের ভাড়া ২৫ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকা ও গৌরীপুর থেকে ময়মনসিংহগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশার ৪০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা করে রাখা হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে।

পৌর শহরের হারুনপার্ক এলাকায় ঢাকাগামী ধূমকেতু বাসের ২২০ টাকার টিকিট ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

বাসযাত্রী আবদুর রাকিব বলেন, ঈদ ও অন্যান্য উৎসব উপলক্ষে অন্যান্য দেশে যাত্রীদের যাতায়াত সুবিধার জন্য ভাড়া কমিয়ে দেয় পরিবহন কর্তৃপক্ষ। অথচ আমাদের দেশে চিত্র ভিন্ন। সোমবার গৌরীপুর বাসট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহগামী বাসের ২৫ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা রাখা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম বলেন, আমি ছুটিতে আছি। যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেয়ার বিষয়টা আমি জেনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।