মঞ্জুরের বদলি ও স্থগিতের নেপথ্যে

নিউজ ডেস্ক: উত্তরা শাখা আড়ংয়ের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকারবিরোধী অনিয়মের অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে বদলির আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গত ৩ জুন বিকালে ওই আদেশ জারি করা হয়। ওই দিনই দুপুরে আড়ং উত্তরা শাখায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয় এক ক্রেতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে। অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তার বদলির আদেশটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়াসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে এই সংবাদ প্রকাশের পর রাতেই সেই বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে নেয় মন্ত্রণালয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা ৩ জুনের ওই বদলি আদেশে বলা হয়েছিল- ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের খুলনা জোনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ন্যস্ত করা হলো। এই আদেশ জারির পর এর বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে গভীর রাতে আদেশটি বাতিল করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ৪ জুন তারিখের আরেক আদেশে মোহাম্মদ শাহরিয়ারের বদলি আদেশ বাতিল করা হয়। কিন্তু কেন বদলি করা হয়েছিল মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে। এ নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা। কেউ কেউ বলছেন, আড়ংয়ে অভিযানের কারণেই ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তরুণ এই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। অনেকটা শাস্তিমূলক বদলি। আবার কেউ কেউ বলছেন, এই বদলির নেপথ্যে শুধু আড়ং নয়, আরও অনেক বিষয় জড়িত। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে তার অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ অনেকের চোখে ভালো লাগেনি। এমনকি প্রশাসনের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যন্ত তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। আড়ংয়ে অভিযানের বিষয়টিকে তারা কাজে লাগিয়েছেন। প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শাহরিয়ার মোহাম্মদ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু অভিযান চালিয়েছেন। এসব অভিযানের একটি ছিল সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতিষ্ঠান অফিসার্স ক্লাব। সদ্য শেষ রমজান মাসে সেখানে অভিযান চালিয়ে আর্থিক জরিমানাও করেছিলেন তিনি। এ ঘটনায় অফিসার্স ক্লাবের কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এরপর মোহাম্মদ শাহরিয়ার অভিযান চালিয়েছিলেন অভিজাত বিউটি পারলার পারসোনায়। সেখানে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার অভিযোগে দুই দফা অভিযান পরিচালনা করেন এই ম্যাজিস্ট্রেট। মোটা অংকের আর্থিক জরিমানা করেন। এ ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন কেউ কেউ। এভাবে আরও বেশ কিছু স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। প্রায় প্রতিটি অভিযানে ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার। এসব অভিযানে লাখ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি অভিযানের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর সুনাম ক্ষুন্ন হয়। আর এতেই মোহাম্মদ শাহরিয়ারের ওপর ক্ষুব্ধ হন সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ গত ৩ জুন রাজধানীর উত্তরায় আড়ংয়ের ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটে ৭৩০ টাকার পাঞ্জাবি দ্বিগুণ দামে বিক্রির দায়ে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেন এই উপ-পরিচালক। আর আড়ংয়ে অভিযান পরিচালনার দিনই বদলির আদেশ জারি করা হয় শাহরিয়ারের। তবে জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ সাংবাদিকদের বলছেন, শাহরিয়ারের বদলির আদেশ একটি রুটিন ওয়ার্ক। যেহেতু এই বদলির আদেশে মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তাই আমরা আগের বদলির আদেশটি বাতিল করেছি। মানুষের সেন্টিমেন্টের কারণে বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, আড়ংয়ে অভিযানের কারণে তাকে বদলি করা হয়নি। আর চাকরি জীবনে কোনো পদায়নকে কেউ শাস্তি মনে করলে সেটা অপরাধ বলেও মন্তব্য করেন সরকারের এই সচিব।