গণতন্ত্র-মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ যুক্তরাজ্যের

নিউজ ডেস্ক:   যুক্তরাজ্যের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটির ২০১৮ সালের বার্ষিক মানবাধিকার ও গণতন্ত্র বিষয়ক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনটি নিয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন বলেছেন, মানবাধিকারের দিক থেকে বাংলাদেশ আমাদের পররাষ্ট্র দপ্তরের অগ্রাধিকারে থাকছে। যেহেতু আমাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে, তাই মানবাধিকার-গণতন্ত্রের সুরক্ষার দুর্বলতা এবং বাকস্বাধীনতার ওপর চাপ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এসব বিষয় নিয়ে আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমরা বিশেষত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

তিনি আরও বলেন, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা পালনের বিষয়টি গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। সে কারণে যুক্তরাজ্য বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও জুলাই মাসে যৌথভাবে গ্লোবাল মিডিয়া কনফারেন্স আয়োজন করবে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও বাকস্বাধীনতা আরও সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ বেড়েছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের সুরক্ষা দুর্বল হয়েছে। গত ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অনেক অভিযোগ গ্রহণযোগ্য বলেও মনে করছে দেশটি।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে এখনও সমকাম নিষিদ্ধ ও এলজিবিটির পক্ষের কর্মীরা অতীতে উগ্রপন্থিদের আক্রমণের শিকার হয়েছে, এখনও চাপে আছে। গুম, ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা এবং আধুনিক দাস ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশ মানবাধিকারের দিক থেকে যুক্তরাজ্যের অগ্রাধিকারে রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ হয়েছে, আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চাই- যেটা একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ দেশ হতে বাংলাদেশের উন্নয়নকে সহযোগিতা করবে। যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে স্পষ্ট ও অনড় রয়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট এই বার্তা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পৌঁছে দেন।

এতে বলা হয়, নির্বাচনে বিরোধীদের অংশগ্রহণ আশাব্যঞ্জক হলেও গ্রেপ্তারসহ নানাভাবে প্রচারে প্রতিবন্ধকতা ও ভোটের দিন অনিয়মের কারণে অনেকে ভোট দিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। এজন্য নির্বাচন ঘিরে সব অভিযোগের গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পর গত বছর মে থেকে জুলাই মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও জোরপূর্বক গুমের যেসব খবর এসেছে তা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়মুক্তি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে সমর্থন করে। এছাড়া এর আগের অনেক ঘটনা এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।