মায়াবতী-অখিলেশ জোটে ভাঙন

নিউজ ডেস্ক :   উত্তরপ্রদেশের উপ-নির্বাচনে ১১টি আসন থেকে বহুজন সমাজ পার্টি বা বিএসপি একাই লড়বে বলে জানিয়েছেন মায়াবতী। অখিলেশ যাদবের সঙ্গে তার জোট জাতীয় নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত আসলো। খবর এনডিটিভির।

মায়াবতী বলেন, আমরা রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করতে পারি না। সোমবার দিল্লিতে নির্বাচনী বিপর্যয় নিয়ে দলীয় বৈঠকে আলোচনার পরে মঙ্গলবার একথা জানালেন তিনি।

তিনি জানান, আপাতত অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টির থেকে তিনি ‘ব্রেক’ নিচ্ছেন। তবে এটা কোনো স্থায়ী বিচ্ছেদ নয়।

তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশে জমি ফিরে পেতেই আমরা সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট গড়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেটা কাজ করেনি। আমরা অনেকটাই পিছিয়ে পড়লাম।

এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়ায় অখিলেশ যাদব জানান, তার দলও ১১টি আসনের উপ-নির্বাচনে লড়বে।

তিনি বলেন, যদি জোট ভেঙে যায়, তাহলে আমরা একাই লড়ব। যদি আলাদাই লড়তে হয়, তাহলে তাই সই। বিপর্যয়ের ব্যাপারে মায়াবতীর স্পষ্ট অভিযোগ সমাজবাদী পার্টির দিকে।তিনি বলেন, এখানে বিজেপি কখনওই ভোটের সময় সুবিধা পায়নি। নিজেদের ভোট হারানো আমাদের উচিত নয়। এখানে শক্তিশালী প্রার্থীরাও হেরেছে।

তিনি বলেন,জোট নিয়ে তিনি ভাবনাচিন্তা করবেন। শর্ত হিসেবে তিনি জানান, যদি আমাদের মনে হয় সমাজবাদী পার্টি তাদের কর্মীদের মধ্যে পরিবর্তন আনতে পারবে তবেই। আর না পারলে আমাদের সেক্ষেত্রে একলা লড়াই ভালো। এই ধরনের পরিবর্তন আনতে সময় লাগবে।

মায়াবতী বলেন, অখিলেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক রাজনীতির থেকে আরও এগিয়ে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে এড়িয়ে চলা কঠিন।

দুই দলের মধ্যে বহু দশকেরও বেশি পুরনো বিবাদ থাকলেও মায়াবতী-অখিলেশ যাদব জুটি নতুন করে এগিয়ে এসেছিলেন সাফল্যমণ্ডিত যুগ্ম প্রচার করে। বিজেপির দখলে থাকা তিনটি লোকসভা এলাকায় তারা এই প্রচার চালিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ব্যর্থ হন। ৮০টি লোকসভা আসনের মধ্যে মাত্র ১৫টিতে জিততে পারে তাদের জোট।

তবে দু’দলের মধ্যে অখিলেশের সমাজবাদী পার্টিই বেশি হেরেছে। মায়াবতী গতবারের শূন্য পদ থেকে এবার ১০-এ পৌঁছালেও সমাজবাদী পার্টিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে পাঁচটি আসনেই।

বিএসপি-এসপি জুটি তৈরির পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল মায়াবতীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে অখিলেশ তাকে সমর্থন দেবেন। অন্যদিকে মায়াবতী বিধানসভা নির্বাচনে ২০১৭-এ ক্ষমতা হারানো অখিলেশের ২০২২ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনায় সমর্থন দেবেন।

বিএসপি প্রধানের পক্ষে এই ১১টি আসনের উপ-নির্বাচন একটা নতুন শুরু। উপ-নির্বাচনে না লড়ার তার এতদিনে নিয়ম ভেঙেও সেই পথেই পা বাড়ালেন মায়াবতী।