চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ, ডিপোতে গাড়িজট

নিউজ ডেস্ক :    ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে সৃষ্ট জাহাজজটের রেশ না কাটতেই চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ঈদের ছুটি। ৯ দিনের ছুটিতে বন্দরে নতুন করে তৈরি করছে কনটেইনারজট। বন্দরের বহির্নোঙরেও সৃষ্টি করেছে জাহাজজট। ঈদের ছুটি শুরু না হলেও বন্দরে পণ্য ডেলিভারির সংখ্যা তিন দিন আগেই নেমে এসেছে অর্ধেকে। স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন গড়ে পণ্যভর্তি পাঁচ হাজার আমদানি-রফতানির কনটেইনার ডেলিভারি হয়ে থাকে। কিন্তু গতকাল রোববার এ সংখ্যা নেমে এসেছে অর্ধেকে। আগের দিন এটি ছিল তিন হাজার ৬১৬। বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় আছে ৫১টি জাহাজ। জেটিতে আছে ১৬টি। আবার বন্দরের ইয়ার্ডেও ২০ ফুট দীর্ঘ পণ্যবোঝাই কনটেইনার পড়ে আছে ৩৩ হাজার ৯৮০টি। জট লাগছে ১৯টি বেসরকারি ডিপোতেও। সেখানে রফতানি পণ্য নিয়ে বাইরে অপেক্ষমাণ আছে প্রায় ছয় হাজার ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি। ঈদ যত এগিয়ে আসছে, পাল্লা দিয়ে কমছে পণ্য ডেলিভারির হার।

অথচ জট কমাতে এবার আগেভাগে কিছু পদক্ষেপও নিয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। ছুটির মধ্যে ডেলিভারি কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে বলে চট্টগ্রাম চেম্বারকে জানানো হয়েছিল। আবার ছুটির ফাঁকে ডেলিভারি অর্ডার পেতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য শিপিং এজেন্টকেও আগেভাগে চিঠি দিয়ে রেখেছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। তারপরও অবনতি হচ্ছে পরিস্থিতির। ঈদের ছুটি আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হলেও বন্দরে এর প্রভাব পড়তে থাকে গত শুক্রবার থেকে। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটির পর গতকাল বন্ধ ছিল শবেকদরের। এরপর আজ সোমবার একদিন সবকিছু খোলা থাকলেও আবার আগামীকাল থেকে টানা তিন দিন শুরু হবে ঈদের ছুটি। এটি শেষের পর আবার শুক্র ও শনিবার আছে সরকারি ছুটি।

এ হিসাবে প্রায় ৯ দিনের ছুটির ফাঁদে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। কেবল ঈদের দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বন্দরে ডেলিভারি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বাকি সময় পণ্য ডেলিভারি দিতে বন্দর প্রস্তুত থাকলেও তা নিতে আসছেন না ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী বাংলাদেশে আঘাত না হানলেও তার প্রভাব এখনও টানছি আমরা। একদিন বন্দরের কাজে বাধা তৈরি হলে সেটির প্রভাব থেকে যায় অনেক দিন। এর মধ্যে আবার শুরু হচ্ছে ঈদের ছুটি। ঈদের দিন মাত্র ১২ ঘণ্টা বন্দরে ডেলিভারি কার্যক্রম বন্ধ থাকে। বাকি সময় আমরা প্রস্তুত থাকলেও পণ্য ডেলিভারি নিতে আসেন না ব্যবসায়ীরা। তাই জমা কনটেইনারের সংখ্যা কিছুটা বেড়ে যায়।

বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এ কে এম সামসুজ্জামান রাসেল বলেন, বহির্নোঙরে ঈদের দিনও কাজ করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। কিন্তু শ্রমিকরা কাজ করতে চান না। তাই ঈদের ছুটিতে কাজের গতি কমে যায় অনেকখানি। তারপরও ঈদের ছুটিতে এবার ১০ থেকে ১২টি জাহাজে পণ্য খালাসের টার্গেট ঠিক করে রেখেছি।

শুধু বন্দর কিংবা বহির্নোঙর নয়, বেসরকারি ১৯টি ডিপোতেও পড়তে শুরু করেছে ঈদের প্রভাব। এসব ডিপো ৩৭ ধরনের আমদানি পণ্য ও শতভাগ রফতানি পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করে। ঈদের আগে মহাসড়কে কাভার্ডভ্যান ও বড় লরির মতো যান চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় এর প্রভাব বেশি পড়ে ডিপোগুলোতে। যথাসময়ে কনটেইনার ডেলিভারি নিশ্চিত করতে আমদানিকারকদের অনেকে পণ্য আগেভাগে পাঠিয়ে দেয় ডিপোতে। এ জন্য রফতানি পণ্যের জট তৈরি হয়। গতকালও ১৯টি ডিপোতে প্রায় ছয় হাজার রফতানি পণ্যবোঝাই গাড়ি খালাসের অপেক্ষায় ছিল।

বিষয়টি স্বীকার করে বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডার সচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, আমরা আছি উভয় সংকটে। আমদানি পণ্য নিয়ে বসে থাকলেও ডেলিভারি নিতে আসেন না ব্যবসায়ীরা। আবার রফতানি পণ্য যথাসময়ে পৌঁছানো নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে শঙ্কা থাকায় তারা আগেভাগে পাঠিয়ে দেয় পণ্য। এ জন্য এখন ছয় হাজার গাড়ির জট লেগেছে ডিপোগুলোর মুখে।’