গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে নেতা-কর্মীরা প্রস্তুত হচ্ছে : রিজভী

নিউজ ডেস্ক : দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা প্রস্তুত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন,‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। এই পবিত্র মাহে রমজানে চরম অসুস্থ অবস্থায় প্রিজন সেলে দিনাতিপাত করছেন তিনি। সম্পূর্ণরুপে জুলুম করে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করা হলেও দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল মিডনাইট ভোটের সরকার দেশনেত্রীকে ঈদের আগেই মুক্তি দিবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে যা বলেছেন সেই প্রতিহিংসাই তিনি বাস্তবায়িত করছেন। এছাড়াও তাকে দেয়া ৩০ টাকার ইফতারি নিয়েও সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা উপহাস ও অহমিকা প্রকাশ করছেন। অন্যায়ভাবে একজন বন্দিকে নিপীড়ন-নির্যাতন করে সেটি নিয়ে আবার ঠাট্টা তামাশা যারা করে তারা মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ। তারা পাশবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ।’

শনিবার(১ জুন) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সচেতন ও সুচতুরভাবে নীলনক্সা অনুযায়ী বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করছে। তারা লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, গ্রেফতার করেছে, খুন করেছে, অনেককে গুম করে দিয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দিচ্ছে। আইন আদালতকে কুক্ষিগত করে জামিন ও রায়ে প্রভাব বিস্তার করছে। সবদিক দিয়ে আমাদের কোনঠাসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এমন দু:সহ প্রতিকুল পরিস্থিতির মধ্যেও বিএনপি তার সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। নেতাকর্মীরা সকল নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করার পরেও দু:শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে। বিএনপি ধাবিত হচ্ছে তার কাঙ্খিত লক্ষে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, আপামর মানুষের জনপ্রিয় পরীক্ষিত নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে সুপরিকল্পিত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তে দল পরিচালনা করছেন। তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই যেকোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর করা হচ্ছে।’

রিজভী বলেন, ‘তারেক রহমান বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনসমূহের সর্বস্তরের নেতাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কথা বলছেন। জেলা নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। তাদের যৌক্তিক পরামর্শ গ্রহণ করে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় কমিটিগুলো গঠনতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পুনর্গঠন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করছেন। সারাদেশে কাউন্সিল হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের সুনিপুণ নির্দেশনায় সারাদেশে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে এসেছে নতুন গতি। প্রাণাবেগে উজ্জীবিত হয়ে উঠছেন নেতা-কর্মীরা। দলে সৃষ্টি হচ্ছে ইস্পাত কঠিন সুদৃঢ় ঐক্য। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে প্রস্তুত হচ্ছেন সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। এই মূহুর্তে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধৈর্য সহকারে সকল পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আহ্বান জানিয়েছেন।’ 

সড়কের শৃঙ্খলা নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন-এবার ঈদে যাত্রীদের দুর্ভোগ হবে না, সড়ক মহাসড়কের অবস্থা ভাল তবে সড়কে শৃঙ্খলা নেই। কাদের সাহেব আরো বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্তমানে সড়কের অবস্থা সবচেয়ে ভাল। আমি বলবো কাদেরের বক্তব্য জনগণের সাথে চরম রসিকতা। সড়ক ব্যবস্থা এতটাই ভাল যে, শুধু ঢাকার অদূরে গাজীপুর যেতে সময় লাগে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা। উত্তরাঞ্চলের অবস্থা আরও নাজুক।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল হয়ে উত্তরের জেলাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা এতই খারাপ যে, উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক, ঢাকা-কুষ্টিয়াসহ দেশের সকল সড়ক মহাসড়কগুলোতে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। সড়কের বেহাল দশার কারণে ঈদে ঘরমুখী মানুষ ঝুঁকছে ট্রেনের দিকে। গতকাল শুরুর দিনে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সকালের ট্রেন বিকেলেও পাওয়া যায়নি। রেলমন্ত্রী এজন্য জাতির নিকট দু:খ প্রকাশও করেছেন। লঞ্চ টার্মিনালগুলো থেকেও লঞ্চ ছাড়ছে দেরি করে। লঞ্চযাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া, বাস যাত্রীদের কাছ থেকেও আদায় করা হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। ঈদ যাত্রার শুরুতেই চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। কথায় আছে-কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না, আওয়ামী লীগের নেতাদের অবস্থাও তাই।’ 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহিদা রফিক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।