এলএনজি খাতে এক হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে পেট্রোবাংলা

নিউজ ডেস্ক :  আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে ৮ হাজার ৫শ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। বেশি দামে আমদানি করা এলএনজি দেশীয় বাজারে কম দামে বিক্রির কারণে পেট্রোবাংলাকে এই ভর্তুকির অর্থ দেয়া হবে। তবে, গ্যাসের দাম বাড়লে এই ভতুর্কির পরিমাণ কমবে। অর্থ বিভাগ ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।

গত এপ্রিল মাসে প্রথমবারের মতো এলএনজি খাতে এক হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয় সরকার। এই ভর্তুকি দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলাকে। গত বছরের অক্টোবরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৫ হাজার ৪শ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এ বাবদ কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

গত মার্চ পর্যন্ত ৩ হাজার কোটি টাকা আর্থিক ঘাটতিতে ছিল সংস্থাটি। এপ্রিলের যে টাকা পাওয়া গেছে তা বর্তমান ঘাটতির কিছুটা মেটানো সম্ভব হবে। কিন্তু সামনে এলএনজি আমদানি আরো বাড়বে। গ্যাসের দাম না বাড়ানো হলে ভর্তুকি পরিমাণও বাড়বে।

জানা গেছে, দেশে গ্যাসের সঙ্কট পূরণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করছে। চলতি বছরের এক মার্চ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) গ্যাসের দাম বৃদ্ধির গণশুনানীতে পেট্রোবাংলার প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গড়ে সাড়ে চারশ থেকে চারশ ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিলে এলএনজি সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়াবে ৭শ মিলিয়ন ঘনফুটে। বেশি দামে এলএনজি কিনে কম দামে বিক্রির কারণে আর্থিক ঘাটতি তৈরি হবে। এই আর্থিক ঘাটতি এড়াতেই গ্যাসের দাম বাড়ানো প্রয়োজন।

এতে বলা হয়, আমদানি করা প্রতি হাজার ঘনফুট এলএনজির দাম ১০ ডলার বা ৮২০ টাকা (ডলার প্রতি ৮২ টাকা ধরে), অন্যদিকে দেশের প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম ১২.১৯ টাকা। দৈনিক দেশের অভ্যন্তরের গ্যাসক্ষেত্র থেকে ২ হাজার ৭১৬ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি ৭শ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করার হিসেব ধরে এই গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের প্রধান গ্যাস পাইপলাইনে আমদানি করা ৫শ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়। এই এলএনজি সরবরাহের কারণে চট্টগ্রাম ও ঢাকা অঞ্চলেও গ্যাসের প্রবাহ বেড়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন বেড়েছে। চলতি মাসে সামিটের এলএনজি জাতীয় গ্যাস পাইপলাইনে যোগ হলে পরিমান দাঁড়াবে ৬শ মিলিয়ন ঘনফুটে।