মন্ত্রিসভা নিয়ে মোদী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের ম্যারাথন বৈঠক

নিউজ ডেস্ক :  পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকে শুরু করে লোকসভা নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে দলের যত জন কর্মী, সমর্থক খুন হয়েছেন বা রাজনৈতিক কারণে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, সেই প্রত্যেকটি পরিবারের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দ্বিতীয় এনডিএ মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে ‘বিশেষ অতিথি’ হিসেবে নিয়ে যাচ্ছে বিজেপি।

মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে মোদী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের ম্যারাথন বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন বলে ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে, এই ঘটনা তাঁর পক্ষে অস্বস্তিকর হবে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় শুরু শপথ অনুষ্ঠান।

বুধবার বিকেলেই হাওড়া থেকে রাজধানী এক্সপ্রেসে রওনা করানো হচ্ছে ৫৪ জন মৃতের পরিবারের মোট ৭০ জন। মৃতদের কোনও পরিবার থেকে ২ জন, কোনওটা থেকে ১ জন করে পাঠানো হচ্ছে দিল্লিতে শপথ অনুষ্ঠানে। সঙ্গে যাচ্ছেন অন্যতম সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি ঘোষ-সহ রাজ্য বিজেপির কয়েক জন নেতা। দিল্লিতে এই ‘বিশেষ অতিথি’দের রিসিভ করবেন রাজ্য বিজেপির মিডিয়া ইনচার্জ সপ্তর্ষি চৌধুরী।

দাঁড়িভিটেতে যে দুই স্কুল-ছাত্রের মৃত্যু হয়েছিল, সেই রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মনের পরিবার থেকে দু’জন করে যাচ্ছেন দিল্লিতে, জানিয়েছেন সপ্তর্ষি।

কোচবিহারের প্রভাত মন্ডল প্রধানমন্ত্রীর সভা থেকে ফিরছিলেন বাসের মাথায় চড়ে। মাথায় গাছের ডাল লাগে, তার জেরে মৃত্যু হয় তাঁর। কোচবিহার জেলা বিজেপি সভানেত্রী মালতী রাভা রায় বলেছেন, ‘‘কোচবিহার দক্ষিণ থেকে যাচ্ছে প্রভাত মন্ডলের পরিবার। প্রভাতের ছেলে সঞ্জয় ও ভাই সুকুমারকে গত কালই কলকাতায় পাঠিয়েছিল জেলা বিজেপি পদাতিক এক্সপ্রেসে। আজ বিকেলে তাঁরা হাওড়া থেকে রাজধানী এক্সপ্রেসে উঠিয়ে দেওয়া হবে।’’

পুরুলিয়ার বলরামপুরে খুন হয়েছিলেন জগন্নাথ টুডু। পুরুলিয়াতেই গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় ত্রিলোচন মাহাত, দুলাল কুমার ও শিশুপাল মাহাতকে। পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসায় খুন হন এক তরুণ বিজেপি কর্মী। বাঁকুড়ায় অজিত মুর্মু নামে এক জন খুন হন। বিজেপির রাড়বঙ্গ জোনের ইনচার্জ নির্মল কর্মকার বলেছেন, ‘‘জগন্নাথ, ত্রিলোচন, দুলাল, শিশুপাল, অজিত ও কাঁকসার নিহত যুবকের পরিবারের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর শপথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’’