মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি আত্বসাতের পাঁয়তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জামালপুর সরিষাবাড়ি উপজেলার আওনা ও কুলপাল মৌজার প্রায় ১০ (দশ) একর জমির মালিক তিন সহোদর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আফজাল হোসেন তরফদার, মরহুম মতিয়ার রহমান তরফদার এবং একমাত্র জীবিত মুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান তরফদারসহ অপর দুই ভাই। তাঁদের এই সম্পত্তি তাদের বাবা মোহাম্মদ আলী তরফদার মৃত্যুর পর আজিজুল নামে একই এলাকায় এক সন্ত্রাসী জোরপূর্বক ভোগ দখল করে আসছে। সে এলাকার মানুষকে বলে বেড়ায় এসব সম্পত্তি তার নিজের এবং সেসব জমিতে নিজে ও তার ছেলেমেয়েদের ঘর তুলে ও গাছপালা লাগিয়ে স্থায়ীভাবে আত্বসাতের চেষ্টা করে আসছে। তিন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা ঢাকা ও ময়মনসিংহে থাকার কারনে সন্ত্রাসী আজিজুলের জন্যে ভোগ দখলে কোন বেগ পেতে হয়না। মোহাম্মদ আলী তরফদারের ছেলেমেয়েরা ও নাতি-নাতনীরা মাঝে-মঝ্যে এলাকা এসে স্থানীয় মুরুব্বীদের বিচার দিলেও ভূমি দস্যু আজিজুল সেসব পাত্তা না দিয়ে সেখানে বাড়ি ঘর তুলে বিদ্যুতের খুটি লাগিয়ে স্থায়ীভাবে গ্রাস করার পাঁয়তারা করলে সর্বশেষ ২৪ মে ২০১৯ইং তারিখ শুক্রবার জুম্মার পর একমাত্র জীবিত ভাই মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান তরফদার ও তার মৃত দুই মুক্তিযোদ্ধা ভায়ের সন্তানদের সাথে নিয়ে এলাকার মুরুব্বী ও মুক্তিযোদ্ধাদের ডেকে নালিশ করলে তারা ভূমিদস্যু আজিজুলকে ডেকে জমি বুঝিয়ে দিতে বললে তাদের কথানুযায়ী আজিজুল কূটকৌশলে রাজি হয় এবং পরের দিন সকালে জমি বুঝিয়ে দেবে বলে তাদের জমিতে যাইতে বলে। পরের দিন ২৫ মে ২০১৯ তারিখে আওনা চরের জমিতে গেলে আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা আজিজুল, আজিজুলের ছেলে আলমগীর, ভাই মোবারক, দুই মেয়ে, মেয়ে জামাই ও আরো অচেনা ১০-১২ জন অপরিচিত সন্ত্রাসী দেশি অস্ত্রসহ মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলেমেয়েদের তাড়া করলে স্থানীয় কিছু মুরুব্বীদের সহযোগিতায় দৌঁড়ে তারা পালিয়ে জানে বাঁচে এবং ভূমিদস্যু আজিজুল শাসিয়ে দেয় ভবিষ্যতে জমিতে যে আসবে তাকে জানে শেষ করে ফেলবে। এলাকায় এসে মুক্তিযোদ্ধা মুজিবর, মরহুম মুক্তিযোদ্ধা আজফাল হোসেন ও মরহুম মতিয়ার রহমান তরফদারের ছেলেমেয়েরা স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা অফিসে ও এলাকার মুরুব্বীদের জানালে তারা নিরাশ হয়ে প্রশাসনের স্বরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ আলী তরফদারের ৫(পাঁচ) ছেলের মধ্যে ৩ (তিন) ছেলে ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্রযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং যুদ্ধের পরও তারা নিজেদের সন্তানের চেয়ে দেশ ও জনগনের সেবায় নিবেদিত ছিলেন। তিন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে গত ১৯৭৬ সালে মতিয়ার রহমান তালুকদার মারা যান এবং ২০০৮ সালে মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন তরফদার মারা যান। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান তরফদার জীবিত আছেন এবং তিনি তার য়াতীম ভাতিজা-ভাতীজিদের জমি উদ্ধারের জন্য বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন জনের নিকট দারস্থ হচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের কল্যাণে সর্বদা সচেষ্ট। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মুিক্তযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলসহ স্থানীয় প্রশাসনের নিকট তাদের অনুরোধ সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ভূমিদস্যু আজিজুলের কৃতকর্মের বিচার এবং অতি সত্বর সন্ত্রাসী এই ব্যক্তির নিকট থেকে জমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় নির্দেশসহ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।